রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সিন্দুর্না নদীপাড়া গ্রামে এক কম্বলেই তিন সন্তানের রাত কাটে, আর মা সারারাত জেগে পাহারা দেন। স্বামী অক্ষম, দুই সন্তান প্রতিবন্ধী এই বাস্তবতা কোনো গোপন ঘটনা নয়। সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে, মানুষ দেখছে, জানছে। কিন্তু যাদের দেখার কথা, জানার কথা, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারা যেন কিছুই দেখছেন না।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসন সবই আছে। ফাইল আছে, তালিকা আছে, কমিটি আছে, সভা আছে। শুধু নেই কার্যকর নজরদারি আর মানবিক তৎপরতা। শীত প্রতিবছর আসে, কিন্তু প্রশাসনের চোখে যেন দরিদ্ররা আসে না। প্রশ্ন হলো এই পরিবারগুলো যদি প্রশাসনের নজরে না থাকে, তাহলে প্রশাসন ঠিক কাদের জন্য কাজ করছে?
সরকারি শীতবস্ত্র আসে বলে জানা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রকৃত দরিদ্রদের ঘরে তা পৌঁছায় না। আর যখন পৌঁছায়ও, তখন সেটি অনেক সময় রাতের অন্ধকারে, ক্যামেরার আলোয় লোক দেখানোর কর্মসূচিতে রূপ নেয়। দু’টি কম্বল হাতে নিয়ে ছবি, ভিডিও, ফেসবুক পোস্ট এটাই যেন প্রশাসনিক তৎপরতার প্রমাণ। অথচ যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তারা তালিকার বাইরেই থেকে যায়।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাজ কি শুধু নির্দেশনা পাঠানো আর উদ্বোধনী ছবিতে হাসা? মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কি সত্যিই তাদের জানার আগ্রহের বাইরে? নাকি দরিদ্রতা এখন কেবল রিপোর্ট আর ফাইলে সীমাবদ্ধ একটি শব্দ?