মাহফুজুর রহমান.
কিছু মানুষ জন্মান ইতিহাস বদলাবার জন্য, আর কিছু মানুষ নিজেই হয়ে ওঠেন এক জীবন্ত ইতিহাস। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর যোগ্য উত্তরসূরি আল্লামা মামুনুল হক ঠিক তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। যাঁর পরিচয় কেবল একটি নামে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি একাধারে একজন নির্ভীক কলম সৈনিক, প্রাজ্ঞ শিক্ষক এবং রাজপথের অকুতোভয় সিপাহসালার।
শিকড়ের টানে, আদর্শের সন্ধানে
১২ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়া সেই বালকটি আজ লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতার হৃদস্পন্দন। যাঁর ধমনীতে বইছে ইলমে দ্বীনের শুদ্ধতম রক্ত। কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিখর দাওরায়ে হাদীসে প্রথম স্থান অধিকার করেও তিনি থেমে থাকেননি; জয় করেছেন আধুনিক অর্থনীতির জটিল অলিগলি। কিন্তু এতো মেধা আর যোগ্যতা সত্ত্বেও তিনি বেছে নিয়েছেন এক কণ্টকাকীর্ণ পথ—যে পথে নবী-রাসূলগণ চলেছিলেন, যে পথ ইনসাফ আর সত্যের।
বিগত বছরগুলোতে বারবার তাঁর ওপর নেমে এসেছে জুলুমের খড়গ। অন্ধকার কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে কেটেছে তাঁর জীবনের মূল্যবান সময়। কিন্তু লোহার শিকল কি আর আদর্শকে বন্দি করতে পারে? তিনি তো সেই নেতা, যিনি কারাগারের দেয়ালকে করেছেন ইবাদতের মোসাল্লা আর কলমকে করেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র। ২০২১ থেকে ২০২৪—এই দীর্ঘ কারাজীবনে তিনি হারিয়েছেন অনেক কিছু, কিন্তু হারাননি তাঁর ঈমানী তেজ।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো জাতি দিকভ্রান্ত, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল মুক্তির অভয়বাণী। তিনি কেবল মাদ্রাসার চার দেয়ালের শিক্ষক নন, তিনি মানবতার সেবক। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ধুলোবালি থেকে শুরু করে ফেনীর বন্যার্ত মানুষের আর্তনাদ—সবখানেই তিনি পৌঁছে গেছেন ত্রাতার ভূমিকায়। 'তাগলীবী দ্বীন ফাউন্ডেশন' আর 'শাপলা স্মৃতি সংসদ'-এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, আলেম সমাজ কেবল তসবিহ হাতে বসে থাকে না, তারা আর্তমানবতার চোখের পানি মুছতেও জানে।
আজ তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি শোষিত মানুষের আশার প্রদীপ। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক সমাজের, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না কোনো অবিচার।
মানুষ মরে যায়, কিন্তু সত্যের জন্য লড়াই করা মানুষগুলো ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে।
আল্লামা মামুনুল হক সেই অমরত্বের পথেই এক অবিচল পথিক। তাঁর ত্যাগ, তিতিক্ষা আর আপসহীন নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে এক আলোকবর্তিকা।