কে এই নোটিশ সার্ভার শফিকুল ইসলাম ?
অভিযোগ আছে, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও শফিকুল ইসলাম ব্যাপক প্রভাবশালী আয়কর বিভাগের অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলেনা, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তা কখনো আলোর মুখ দেখেনি।
কি তার ক্ষমতার উৎস ?
শফিকুল ইসলাম চাঁদপুর মতলব উত্তরের ফরাজীকান্দি ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোঃ জমির হোসেনের ছোট ছেলে,২০১২ সালে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সুপারিশে আয়কর বিভাগের পিয়ন হিসেবে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের পরপরই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মে ঘুরে যেতে থাকে ভাগ্যের চাকা, অবৈধ অর্থে ক্রয় করতে থাকেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।
আয়কর অফিসের দুর্নীতির লাগাম কোনভাবেই থামছে না, কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শূন্য থেকে বনে যাচ্ছেন শত শত কোটি টাকার মালিক আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে আয়করের নোটিশ সার্ভার শফিকুল ইসলাম তিনি ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল ৭৫(সাবেক ৮৮) এর নোটিশ সার্ভার হিসেবে কর্মরত আছেন।
ঠাকুরপাড়া গ্রামে বেশ কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, জমির হোসেনের পরিবার ঠিকমতো দুবেলা খেতে পেত না, ছিল একটি ভাঙ্গা কুঁড়েঘর কিন্তু শফিকুল ইসলাম সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর সেই ভাঙ্গা কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ক্রয় করেছেন চাঁদপুরে বিপুল পরিমাণ জমি জমা, তার বেতন কত ? সে তো ঠিকমত পড়াশোনা করেনি, গ্রামে আসলে নিয়ে আসেন গাড়ি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী আরো বলেন অবৈধ অর্থে এরা এখন খুব প্রভাবশালী তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা আছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী।
নিজ গ্রামের বাড়িতে প্রায় ১০০ গরু নিয়ে তৈরি করেছেন একটি খামার যেখানে প্রায় কোটি টাকার উপরে বিনিয়োগ করেছেন। এলাকায় সামাজিকভাবে বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে দান খয়রাত দেওয়ার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। শফিকুল ইসলাম নিজে পরিধান করেন দামী দামী কাপড়-চোপড় চলাফেরা করেন বিলাসবহুল ভাবে।
একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের প্রভাব খাটিয়ে চলেন, অভিযোগ আছে তিনি নিয়মিত সেই মহলে অর্থ ডোনেট করেন, এইজন্য তার বিরুদ্ধে সহজে কেউ মুখ খোলে না। রাজধানী ঢাকায় পুরনো পল্টন ৩/এ এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন যার ভাড়া আনুমানিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা অথচ তিনি বেতন পান সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
রাজধানীতে রয়েছে তার একাধিক ফ্লাট প্লট
পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। দুই সন্তান তানভীর হোসাইন ও তাসফিয়া ইসলাম পড়াশোনা করান রাজধানীর নামিদামি স্কুলে। আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে অধিকাংশ সম্পদ ক্রয় করেছেন বাবা জসিম হোসেন, মা মমতাজ বেগম, স্ত্রী তানিয়া আক্তার, শশুর হান্নান বন্ধুকসী, শাশুড়ি হাছিনা বেগম, ছেলে তানভীর হোসাইন, মেয়ে তাফসিয়া ইসলাম এছাড়াও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম স্ত্রী তানিয়া আক্তার ও দুই সন্তানের নামে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয় করের বেশ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযোগ জমা হয়েছে কিন্তু উনি অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দিয়েছেন এবারও হয়তো তিনি তাই করবেন সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী কিভাবে এত সম্পদের মালিক হতে পারে এবং কি তার ক্ষমতার উৎস যে বিভিন্ন কর্মকর্তা কে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নোটিশ সার্ভার শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনার বক্তব্য লাগলে আপনি লিখে নেন আর পারলে দুদকে গিয়ে আবারো অভিযোগ দেন দেখি তারা আমার কি করতে পারে।