বিশেষ প্রতিনিধি :মাহফুজুর রহমান।
জাতীয় সংসদ ভবন কেবল একটি স্থাপত্যশৈলী নয়; এটি বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ কেন্দ্র। এখান থেকেই প্রণীত হয় রাষ্ট্রের আইন, নির্ধারিত হয় কোটি মানুষের ভাগ্য। এই ভবনের প্রতিটি ইট-পাথর বহন করে জনগণের আমানত। তাই সংসদ ভবনের পবিত্রতা রক্ষা করা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং নীতিনির্ধারকের নৈতিক দায়িত্ব।
একটি রাষ্ট্রের ভাগ্য যখন কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়, তখন সেখানে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ থাকে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যারা দেশের কথা ভাবেন, সংসদ কেবল তাদেরই পদচারণায় মুখরিত হওয়া উচিত। যদি অনৈতিকতা বা দুর্নীতির ছায়া এই আঙিনায় পড়ে, তবে আমাদের অর্জিত শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনসহ মাঠ পর্যায়ের সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপর বর্তেছে এক বিশাল গুরুভার। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি, প্রশাসন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসলে দেশের মানুষের আস্থার পাহারাদার।
বিবেকের আদালতে দাঁড়িয়ে এই দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি কর্মকর্তার নৈতিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
অর্পিত দায়িত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে তা কারও কাছে বিক্রি করা যাবে।
বছরের পর বছর যে প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক শিক্ষা আমরা গ্রহণ করি, তার প্রকৃত পরীক্ষা হয় সংকটের সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে।
সাময়িক প্রলোভন বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেয়।
দেশপ্রেম কেবল স্লোগানে নয়, বরং কাজে প্রতিফলিত হওয়াই শ্রেয়। সংসদ ভবনের যে মর্যাদা আমরা অন্তরে লালন করি, তার প্রতিফলন দেখতে চাই নির্বাচনি মাঠের প্রতিটি পদক্ষেপে। যারা আগামী দিনে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন, তাদের সততা ও সাহসিকতাই নির্ধারণ করবে আমাদের আগামী দিনের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা। জনগণের প্রত্যাশা—কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে যেন দেশের ভাগ্য বিক্রি না হয়।