বিশেষ প্রতিবেদন: মাহফুজুর রহমান
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ যখন উত্তপ্ত, তখন পর্দার আড়ালে নিঃশব্দে প্রস্তুতি নিচ্ছেন একদল ডিজিটাল যোদ্ধা। প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের বড় ক্যামেরা বা ওবি ভ্যান যেখানে পৌঁছাতে হিমশিম খায়, সেখানে সাধারণ একটি স্মার্টফোন হাতে তৈরি থাকছেন হাজারো মোবাইল জার্নালিস্ট (মোজো)।
নির্বাচন মানেই যেখানে পেশিশক্তি আর প্রভাব বিস্তারের শঙ্কা থাকে, সেখানে এই ক্ষুদ্র ডিভাইসটিই এখন হয়ে উঠেছে স্বচ্ছতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
নির্বাচনের দিন অনিয়ম ঠেকাতে মোবাইল সাংবাদিকতা কেন গেম-চেঞ্জার হতে পারে, ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা এডিট বা সেন্সর করার সুযোগ নেই। মোজো সাংবাদিকরা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ যাওয়ার ফলে মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে যায়।
বড় ক্যামেরার উপস্থিতি অপরাধীদের সতর্ক করে দিলেও, পকেটে থাকা স্মার্টফোনটি অনেক সময় তাদের অগোচরেই অনিয়মের ভিডিও রেকর্ড করে ফেলে।
দুর্গম চরাঞ্চল বা পাহাড়ি জনপদের কেন্দ্রগুলোতে যেখানে মূলধারার সাংবাদিকরা পৌঁছাতে পারেন না, সেখানে স্থানীয় মোজো সাংবাদিকরাই তথ্যের একমাত্র ভরসা।
দ্রুততম সময়ে সঠিক তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ আপলোড করে তারা নির্বাচনের দিন ছড়িয়ে পড়া যেকোনো ফেক নিউজ বা গুজব নস্যাৎ করতে সক্ষম।
একটি ভোটকেন্দ্রের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ একজন তরুণ আজ কেবল দর্শক নন; তার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি একটি শক্তিশালী সিসিটিভি ক্যামেরার চেয়েও ভয়ংকর, যা অন্যায়ের প্রমাণ মুছে ফেলতে দেয় না।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজরদারি এখন কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রার্থীরা এখন জানেন যে, সামান্য একটি ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে তাদের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে।
ফলে এবারের নির্বাচনে মোজো সাংবাদিকদের এই অকুতোভয় পদচারণা কেবল সংবাদ সংগ্রহ নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি 'ডিজিটাল প্রোটেকশন শিল্ড' হিসেবে কাজ করবে।
ভোটের লড়াইয়ে হার-জিত যাই হোক না কেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে মোবাইল সাংবাদিকরা যে স্বচ্ছতার নতুন মানদণ্ড তৈরি করছেন, তা গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।