বিশেষ প্রতিনিধি :মাহফুজুর রহমান.
ঢাকার রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তারুণ্যের আইকন হিসেবে পরিচিত ববি হাজ্জাজ। এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে আল্লামা মামুনুল হকের রিকশা প্রতীককে বিপুল ভোটে পেছনে ফেলে জয়ের মালা পরেছেন তিনি।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ববি হাজ্জাজের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচারণার কাছে কুপোকাত হয়েছে প্রথাগত ধারার রাজনীতি। মূলত তরুণ ভোটারদের অভাবনীয় সমর্থন এবং ‘স্মার্ট ঢাকা-১৩’ গড়ার প্রতিশ্রুতিই তাকে এই ঐতিহাসিক বিজয়ে পৌঁছে দিয়েছে। জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ববি হাজ্জাজ বলেন:
এই জয় আমার নয়, এই জয় ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের। আমরা একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক ঢাকা গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ববি হাজ্জাজের প্রধান লক্ষ্য এই এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করা। বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ঢাকা-১৩ আসনে কোনো অপরাধীর ঠাঁই হবে না। কিশোর গ্যাং কালচার রোধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই হবে তার প্রথম চ্যালেঞ্জ।
ববি হাজ্জাজের বিজয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত এলাকা।ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিকদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার। সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হকের বিশাল জনভিত্তি থাকলেও, ববি হাজ্জাজের সুশৃঙ্খল প্রচারণা এবং আধুনিক উন্নয়নের দর্শন সাধারণ ভোটারদের বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজকে বেশি আকর্ষণ করেছে। শেষ পর্যন্ত রিকশা মার্কাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মানুষ এখন সাম্প্রদায়িকতা বা আবেগের চেয়ে উন্নয়ন ও আধুনিকতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
ঢাকা-১৩ আসনের সাধারণ মানুষের আশা, ববি হাজ্জাজের হাত ধরে দীর্ঘদিনের মাদক ও সন্ত্রাসবাদের কালিমামুক্ত হয়ে এই এলাকা রাজধানী ঢাকার এক অনন্য মডেলে পরিণত হবে। এখন দেখার বিষয়, তারুণ্যের এই আইকন তার প্রতিশ্রুত 'সুন্দর ঢাকা-১৩' কত দ্রুত উপহার দিতে পারেন।