সূত্রমতে,গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামছুদ্দোহা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ভায়রা। ২০১৬ সালে মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সি প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন। ফ্যাসিবাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ন সরকারি আবসান প্রকল্পের দশ হাজার কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন করেন । টেন্ডার বানিজ্যের সিন্ডিকেট করে শত কোটি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেতে উঠে পড়ে লেগেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর ও দুর্নীতির বরপুত্র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামছুদ্দোহা।চাকরি জীবনে নানা কেলেংকারি সম্পন্ন করে এখন প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেতে তিনি বড় অংকের অর্থ নিয়ে নতুন মিশনে নেমেছেন বলে জনাগেছে।
শামছুদ্দোহার অন্যতম সহযোগী ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নু। ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে চারগুন এপিপি বরাদ্দ বেশি বাগিয়ে নেন এবং ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে বিশ কোটি টাকা বকেয়া করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের নির্দেশে। যার প্রাক্কলন ও টেক অনুমোদন করেন শামছুদ্দোহা । তখন ময়মনসিংহ জোনের সকল ডিভিশনের মডেল মসজিদের নির্মান প্রকল্পের কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ছাত্র জীবনে শামছুদ্দোহা ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন পরবর্তীতে বুয়েটে ছাত্রলীগের ধারা অব্যাহত রেখে হল শাখা ছাত্র লীগের নেতা নির্বাচিত হয়। শামছুদ্দোহা ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদ্যবধি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান মুন্সী চলে যাওয়ার পর শামছুদ্দোহা ঢাকার বাহিরে একবার চাকরি করেন।ঢাকায় রমনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, নারায়নগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী; পরে ময়মনসিংহে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়ে ফ্যাসিবাদ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ময়মনসিংহ জোন লুটেপুটে খান।
সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদের লোকজনকে কাজ দিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার অনুমোদন দেন শামছুদ্দোহা।আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর শামছুদ্দোহা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং বড় অংকের টাকার বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।
সূত্রমতে, বর্তমানে শামছুদ্দোহা সংস্থাপন ও সমন্বয় শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার সুবাদে মন্ত্রণালয়ে জোর তদবির করতে পারছেন খুব সহজে। ঢাকার ভিতরের অনেক নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ টাকা তুলে প্রধান প্রকৌশলীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। অথচ শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের সহযোগিতায় মোসলেহউদ্দিনকে সরিয়ে ঢাকা গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পোস্টিং বাগিয়ে নেন। মিরপুরের ও সাভারের কাজে হস্তক্ষেপ করে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের একটি আলোচিত একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামীলীগ ফ্যাসিবাদ সিন্ডিকেটকে দেন। তখন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন মোঃ নাসির উদ্দিন খান। এই নাসির উদ্দিন খান শামছুদ্দোহার প্রভাবে মাছ চুরির মত জঘন্য অপরাধও করেছেন
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, মোঃ শামছুদ্দোহা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক ও বারিধারায় ফ্ল্যাট রয়েছে। জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মান করেছেন এবং শরিষাবাড়িতে দশ একর জমি ক্রয় করছেন রির্সোট নিমান করার জন্য।
১ম পর্ব চলমান..................