স্টাফ রিপোর্টার
যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি পেজের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে পণ্য সরবরাহ না করা এবং নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক এমন অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত মূল্য অগ্রিম পরিশোধের পরও তারা তাদের অর্ডারকৃত পণ্য হাতে পাননি। কেউ কেউ পণ্য পেলেও তা ছিল নিম্নমানের এবং বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত পণ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করেই সংশ্লিষ্ট পেজ ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘আস্থা লাইভস্টাইল’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের মালিক আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে প্রতিষ্ঠানের এক ম্যানেজার বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যে অভিযোগ উঠেছে তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
আমাদের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও গ্রুপে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগসংবলিত পোস্ট ও মন্তব্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন গ্রাহক অগ্রিম অর্থ প্রদানের রসিদ ও কথোপকথনের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাজার রাত ১০টায় বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অনেক সময় রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোলা রাখত। মালিকের বিরুদ্ধে আরও কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে, একই প্রতিষ্ঠান নতুন নামে বা বড় পরিসরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্য, এটি পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাতের কৌশল হতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনলাইন বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।