চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকিউরমেন্ট বিভাগ চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) দপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে দপ্তরের পেছনের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়।
নিয়মিত টহলের সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মো. সাব্বির হোসেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের পেছনের দিকে আগুনের ফুলকি দেখতে পান। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোলরুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কারকাজ চলাকালে ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগের আইবি সেকশনের পেছনে রাখা কিছু পুরোনো কাগজপত্র আংশিকভাবে পুড়ে গেছে।
সিসিএস দপ্তর সূত্র জানায়, দপ্তরের ক্রয় শাখা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখায় বর্তমানে সংস্কার ও মেরামত কাজ চলছে। এ কারণে প্রায় এক মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ অধিকাংশ অফিস সরঞ্জাম সাময়িকভাবে শিপিং দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফলে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সিসিএস দপ্তরের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে অবস্থিত এ দপ্তরের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস বেলাল হোসেন সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিসিএস দপ্তরের অধীনে পি-১ থেকে পি-৭ পর্যন্ত একাধিক ক্রয় বিভাগ, শিপিং সেকশন, ইন্সপেকশন বিভাগ এবং গুদাম কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশের রেল ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ মালামাল ক্রয়, গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দপ্তরে সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখান থেকেই সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দপ্তরটির বিভিন্ন ভবনের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল। ছাদ ও সিলিংয়ের ক্ষতি, ভাঙাচোরা ফ্লোর, দেয়ালে ফাটল, নষ্ট দরজা-জানালা এবং পুরোনো বৈদ্যুতিক ও পানির লাইন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ ছিল।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর সিসিএস দপ্তরের সংস্কার কাজ শুরু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে দপ্তরের কর্মপরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।