সরকারের ৩০ দিনের পোস্টমর্টেম

আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০১:০৪:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০১:০৪:১১ অপরাহ্ন


তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এক মাস পার করেছে। এই এক মাসে সরকার প্রশংসা করার মতো বেশকিছু কাজ করেছে। আছে সমালোচনাও।

সরকারের এক মাসের পোস্টমর্টেম করলে দেখা যায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার তার জনতুষ্টিমূলক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা চোখে পড়ার মতো। ফ্যাসিবাদী হাসিনার তুলনায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তার অনাড়ম্বর দায়িত্ব পালন এবং তার যাতায়াতে জনভোগান্তি দূর করা এবং প্রটোকল কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছেন।


দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়তে না দেওয়ার পদক্ষেপও জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে জ্বলানির দাম না বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার।

সরকারপ্রধান তারেক রহমান অনাড়ম্বরভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করছেন ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট একটি দেশকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে। উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারায় আবারও নিয়ে যেতে। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মজবুত করতে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পরই তারেক রহমান ছুটে গেছেন সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। তার এই উদারতা দেশবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে তারেক রহমান সরকারের প্রথম ৩০ দিনে বিতর্কিত বেশকিছু কাজও চোখে পড়েছে। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠন না করা, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারদলীয় এমপিদের শপথ গ্রহণ না করাসহ গণভোটের রায় মানতে নারাজি সংস্কার বাস্তবায়নে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া সিটি করপোরেশনে মেয়র এবং জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন না দিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার, ইউজিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনের দৃষ্টিকটু প্রক্রিয়া চোখে পড়েছে এবং চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর নতুন ব্যাখ্যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বহুল আকাঙ্ক্ষিত অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনের ৫ দিনের মাথায় ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন। ষষ্ঠবারের মতো বিএনপির এই ক্ষমতারোহণ হলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রায় ১৭ বছরের হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। বিভিন্ন ব্যাংক লুট করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। গুম-খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনই এক অবস্থায় ছাত্র-জনতা জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। স্বৈরাচার যাতে আর ফিরে আসতে না পারে, দেশবাসী যাতে তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পায়, ব্যাংক যাতে আর লুট না হয়, গুম-খুন না হয়; যারা এসবে জড়িত ছিল, তাদের যাতে বিচার হয়, এ জাতীয় অসংখ্য প্রত্যাশা সামনে নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব এনে জুলাই সনদে তা অন্তর্ভুক্ত করে।

এর আলোকে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ভোট প্রদানের পাশাপাশি গণভোটে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে জনগণ রায় দেয়। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সরকার প্রথম মাসটিতে সংবাদমাধ্যমের অকুণ্ঠ সমর্থনই শুধু পায়নি, বলা যায় পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়েও অনেক সংবাদমাধ্যম প্রশংসা ও স্তুতিতে ভাসিয়েছে। ‘মধুচন্দ্রিমাকাল’হিসেবে এটাকে পাঠক-দর্শকও সম্ভবত খারাপভাবে নেয়নি।

তাছাড়া আলোচ্য সময়কালে সরকার অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগী হয়েছে। জনসাধারণের জীবনঘনিষ্ঠ বেশকিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতার মতো ইতিবাচক উদ্যোগগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সদিচ্ছার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম ১৬ টাকা কমানো, ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় সম্ভাব্য সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগ, ৫৪ জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা, শিক্ষার্থীসহ তিন ধরনের যাত্রীর জন্য মেট্রো ও রেলের ভাড়া ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ মধুচন্দ্রিমাকালে সরকারের প্রশংসা করার মতো পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা ‘ব্যয়বহুল মধুচন্দ্রিমা’র মতোই।

আবার ‘হানিমুন পিরিয়ডে’কিছু নেতিবাচক কাণ্ড-কীর্তি জনমনে বিরূপ প্রভাবও ফেলেছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নানা ধরনের অপকর্ম ও আধিপত্য বিস্তারে সংঘাত-হানাহানি, নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি, হাসপাতালের সেবা বন্ধ রেখে সরকারদলীয় এমপিদের সভা, পরিবহন সেক্টরের চাঁদাকে ‘সমঝোতা’র মোড়কে হালাল করার চেষ্টা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক বসানো, প্রশাসনে রদবদলে দক্ষতা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে অন্ধ আনুগত্যের প্রাধান্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে পরিবর্তনে ভুল বার্তা, সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে পছন্দের ক্ষেত্রে সুবিবেচনার অভাব ঘটনাগুলো সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

প্রেমময় ও উত্তেজনাপূর্ণ মধুচন্দ্রিমাকালেই কিছু ইস্যুতে অনভিপ্রেত সমালোচনা এবং ভার্চুয়াল তুলাধুনার মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। কিন্তু যথাসময়ে তা মোকাবিলা করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের প্রথম ৩০ দিনে নেওয়া জনতুষ্টিমূলক প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে এমন পদক্ষেপও রয়েছে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের কালি মুছে যাওয়া আগে তারা তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন।

জনতুষ্টিমূলক উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে

১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের চার কোটি ফ্যামিলিকে পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী : চার হাজার ৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী ভাতা পেয়েছেন। প্রতি মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও মোতওয়াল্লির জন্য মোট ১০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার করে এই সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটা সম্প্রসারণ করা হবে।

৩. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ : প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৭ হাজার কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল থেকে এই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কৃষকের মধ্যে এটা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

৪. বিএনপি তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৬ মার্চ দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুর থেকে একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

৫. বিএনপির প্রথম সংসদীয় দলের সভায় এমপিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন হবে।

৬. দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম-মাশায়েখদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাতব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময় : প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস : প্রধানমন্ত্রীর অতিসাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিকব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন হয়েছে, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

এছাড়া বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসা-যাওয়ায় এখন মাত্র একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন।

এর বাইরে শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুনঃভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল করা হয়েছে। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রশংসিত হয়েছে। নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদারের লক্ষ্যে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া জনতুষ্টিমূলক কাজের মধ্যে রয়েছে, বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেটের ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এটা উদ্বোধন করা হয়েছে।

এর বাইরে সরকারের প্রথম ৩০ দিনে দ্রব্যমূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। কাঁচাপণ্য ও শাকসবজির দাম অনেক কমে এসেছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে।

বিতর্কিত বিষয়

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারদলীয় এমপিরা শপথও নেননি। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথের পাশাপাশি গণপরিষদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেন।

সরকারি দল থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধানে গণপরিষদ বলে কিছু নেই। তাই তারা এটা গঠন কিংবা এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন না। সরকার ও বিরোধী দল এ নিয়ে মুখোমখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। গণভোটে যেভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো পাস হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন হবে কি নাÑএ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে করার রায় গণভোটে এসেছে কিন্তু এটি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যে গতিতে বিএনপি তার নির্বাচনি ওয়াদা পূরণ করছে, তার বিপরীত গতিতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ছে। বিএনপির আশ্বাস সত্ত্বেও বিরোধীরা এ নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

বিএনপি সরকার ঢাকার দুটিসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রথম দফায় এবং পরে আরো পাঁচটি সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয় দফায় দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়েছে। ভোটের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচনের জন্য সবাই যখন উন্মুখ হয়ে আছে, তখন এ ধরনের পদক্ষেপকে বিরোধী দলসহ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। সবশেষ ৬৪ জেলার মধ্যে ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম, দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর এসএমএ ফায়েজের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায়ের প্রক্রিয়াটি দৃষ্টিকটু লেগেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে যথারীতি মব সৃষ্টি করে বিদায় করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার নতুন ভিসি নিয়োগের ঘোষণা এসেছে একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর মুখ থেকে। কিন্তু তখনো কোনো গেজেট হয়নি। ফলে এটি এক ধরনের আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম চাঁদা আর চাঁদাবাজির পার্থক্য টানতে গিয়ে যে ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন, সেটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি জনমনে ভুল বার্তা দিয়েছে। মনে হয়েছে, চাঁদাবাজির কোনো একটি প্রক্রিয়াকে সরকার প্রশ্রয় দিতে চাচ্ছে।

এর বাইরে সরকার ৫০ সদস্যের ঢাউস মন্ত্রিসভা গঠনের পর মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আরো ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে তিন-চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার একই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসবই বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে না।

গত সপ্তাহে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ব্যবস্থায় একটি বিতর্কিত ও নেতিবাচক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা শিথিল বা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর চাউর হয়। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে সরকার ও বিএনপিকে ধোলাই চলতে থাকে। অনেকে বলতে থাকেন, ‘বিএনপিতে শিক্ষিত লোকের অভাব আছে বলেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।’সপ্তাহজুড়ে তীব্র সমালোচনা হজম করে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানালেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া আরেকটি বিষয় বেশ আলোচিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক সংসদীয় আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনি আবেদন করতে পারেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৩৬ প্রার্থীর পৃথক ৩৬টি নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ৯ প্রার্থীর করা পৃথক নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও রয়েছেন। ৯টি আবেদনেরই শুনানি হবে বিচারপতি জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে। নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ ও শুনানির জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি।

নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের সদস্যদের রিট আবেদনের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল। তবে এ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত দুটি দলই একে অপরের বিজয়কে ম্লান করছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com