মোঃ লিখন ইসলাম (আ)xনীলফামারী
প্রতিনিধি)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গ্রাম পুলিশ, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীনকে রংপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পরিচালিত পাথর ও বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধে অভিযান চালান। এ সময় নদীতে স্থাপিত প্রায় ৫০টি সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের মেশিন সরিয়ে নিতে বলা হয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী ব্যবসায়ী, মেশিন মালিক ও শ্রমিকরা। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে থাকা এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা, কুড়াল, ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে।
সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত, বাম হাত ভেঙে যাওয়া এবং বুক ও পাঁজরে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ জাহিদুল ইসলামকেও মারধর করা হলে তাকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে পাঠানো হয়েছে ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আরেফিন ও ক্যামেরাম্যান আবু রায়হানকে মারধর করে তাদের ভিডিও ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং দুর্বৃত্তরা একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
আহতদের উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানের ও গ্রাম পুলিশকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে দ্রুত একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাসুম, জাফর, মিতু, আব্দুল করিম আতিয়ার, রহমান, তুহিন, জাহাঙ্গীর, লিটনসহ শতাধিক মেশিন মালিক, শ্রমিক ও পাথর ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি পুনরায় সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে ।