পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের কোটি মানুষের ঘরমুখো যাত্রা এবার সীমাহীন দুর্ভোগ, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে। মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের মানবেতর ভোগান্তি, বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের হয়রানি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ সড়কে মৃত্যুর মিছিল এবং সান্তাহারে ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়া ও টিকিট সংকট—সব মিলিয়ে একটি ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১৯শে মার্চ ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল যৌথ বার্তায় বলেন এই পরিস্থিতির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সরাসরি দায়ী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অবহেলা, অদক্ষতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই জনগণকে এ দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে কোথাও কোন সমস্যাই হয়নি, মন্ত্রী দায় অস্বীকার করে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শুধু দুঃখজনকই নয়—বরং জনগণের সাথে চরম উপহাসের শামিল।
ঈদ পরবর্তীতে ফেরার সময়ও যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য তাঁরা নিম্মোক্ত দাবি জানিয়েছেন-
১. অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে।
২. ঈদকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৩. সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে জবাবদিহিতা করতে হবে।
৪. ঈদযাত্রায় সৃষ্ট নৈরাজ্যের জন্য দায়ী সকলকে চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
বিবৃতিতে তাঁরা আরও দাবি করেন জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যর্থতার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই—সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে এমনকি জনগণের এই দুর্ভোগের দায় সরকারকে রাজনৈতিকভাবেও বহন করতে হবে।