২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মুক্তিজোট।
মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল ২৫শে মার্চ ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই মহান দিনে আমরা স্মরণ করি সেই অমর আত্মত্যাগ, যার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পরিচয়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—যে স্বাধীনতার জন্য লাখো মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্বাধীনতার চেতনা আজও পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ—এসবই আমাদের স্বাধীনতার অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিণতিতেই ১৯৭১ এ স্বাধীনতা এসেছে, ৯০ এর পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আমরা এগিয়েছি কিন্তু রাজনৈতিক ‘স্থিতিশীলতা’র ক্ষেত্রে জাতীয় সংকটে দেশাত্ববোধের তাড়না আমরা সবাই অনুভব করেছি তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশাত্ববোধের সদিচ্ছা, সততাটুকু শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত হয়েছে- স্বচ্ছ ভাবমূর্তি হয়েছে কালিমালিপ্ত। ছাত্র-জনতার ২৪শের গণঅভ্যূত্থান পরবর্তীতেও একই চিত্র ধিরে ধিরে ফুটে উঠছে।
তাঁরা বিশ্বাস করে, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতা নয়; বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। তাঁরা সেই বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর মূল্য পাবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং রাষ্ট্র হবে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বশীল।
তাই “ডান-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর” এই স্লোগানে মুক্তিজোট এর দাবি সংবিধানের ৬০ ধারা বাস্তবায়ন অর্থাৎ স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হবে।
শেষে ৭১-এ, যে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিল লাখো মানুষ, মহান স্বাধীনতা দিবসে তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও বিনম্র সালাম জানিয়ে দেশবাসীকে মুক্তিজোটের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।