​সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধে জড়ালে দুবাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে: জেফরি স্যাক্স

আপলোড সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০২:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০২:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন


এবার প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) চলমান যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ দুবাই ও আবুধাবির মতো শহরগুলোকে সরাসরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সোমবার (৩০ মার্চ) এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে (এএনআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুবাই ও আবুধাবি মূলত পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, এগুলো কোনো সুরক্ষিত সামরিক অঞ্চল নয়। 

স্যাক্স যুক্তি দেন, এই দেশগুলো মূলত বিত্তবানদের আমোদ–প্রমোদ ও সম্পদ রাখার জায়গা, যা কোনোভাবেই একটি সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় নয়। ফলে যুদ্ধে জড়ানো মানেই হলো দুবাইয়ের মতো একটি শহরের মূল উদ্দেশ্যকে পরাজিত করা এবং একে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা। জেফরি স্যাক্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে একটি ‘অযৌক্তিক গোলমাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া আমিরাতের জন্য একটি বিপর্যয়ের আমন্ত্রণ ছিল। তিনি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু বন্ধু হওয়া প্রাণঘাতী।’ 


স্যাক্স মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সুরক্ষার ওপর অতিরিক্ত ভরসা করে একটি মৌলিক ভুল হিসাব কষেছে। তারা ভেবেছিল যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তাদের রক্ষা করবে, তাই তারা নিজেদের ইচ্ছামতো চুক্তি বা রাজনৈতিক অবস্থান নিতে পারবে; কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই ধারণাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইরান ইতিমধ্যে ২০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দিয়েছে যাতে তারা তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ঘাঁটিগুলোই বর্তমান সংকটের মূল কারণ এবং এগুলো ব্যবহার করে কোনো আক্রমণ চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে। 


জেফরি স্যাক্স আমিরাতকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা একটি ‘হেরে যাওয়া বাজি’র পেছনে বারবার বিনিয়োগ না করে। তিনি বলেন, গতকালই আমিরাত ঘোষণা করেছে যে তারা তথাকথিত ‘শয়তান’ ইরানিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে; এটি অত্যন্ত নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও জোরালো সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পুরো অঞ্চলটি এখন একটি বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। 

জেফরি স্যাক্সের এই বিশ্লেষণ তেহরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই ও আবুধাবির মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটন ও বাণিজ্যিক নগরীগুলো যদি যুদ্ধের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে। আপাতত আমিরাত সরকার তাদের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চরম দোটানায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: এনডিটিভি

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com