এস কে সামিউল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধি
সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ মাসে মেহেরপুরে ১৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
আজ সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সউদ কবির জানান, এক মাস থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। গত মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দা মঞ্জিলা খাতুন বলেন, সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।
সদর উপজেলার আনারুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের বয়স ১৯ মাস। এর আগে দুটি টিকা দেওয়া হয়েছিল। তত্ত্বাবধান সরকারের সময়ের পর আর টিকা দেওয়া হয়নি। প্রথমে জ্বর আসে, পরে গায়ে দানা দানা বের হতে থাকে। হাসপাতালে আনার পর হাম শনাক্ত হয়।
জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের সংক্রমণ না ঘটে।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। হামের প্রতিষেধকের একমাত্র উপায় ভ্যাকসিন দেওয়া।