পাকিস্তান সুপার লিগে একসঙ্গে জ্বলে উঠলেন দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ব্যাটিং আর মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিং। এমন দিন সাধারণত খুব একটা দেখা যায় না। শুক্রবার ইমন-ফিজের দুর্দান্ত নৈপূন্যেই পিএসএলে জয়ের ধারায় ফিরেছে লাহোর কালান্দার্স। মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ১৩ ওভারেই ১৮৫ রান সংগ্রহ করার পর লাহোর জিতেছে বীরের বেশে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লাহোর পায় স্বপ্নের মতো শুরু। মোহাম্মদ নাঈমের সাথে ওপেনে নেমে দারুণ সূচনা এনে দেন ইমন। যদিও তাকে সাক্ষী রেখে নাঈমই মূলত চড়াও হন বোলারদের ওপর। কার্টেল ওভারের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ইনিংসের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৩ ওভারে। মোহাম্মদ ইসমাইলের বোলিংয়ের বদান্যতায় ২ বল শেষেই স্কোর বোর্ডে ছিল ১৮ রান।
চতুর্থ ওভারে খোলস ছেড়ে বের হন ইমন। হাঁকান নিজের প্রথম ছক্কা। তবে এবার আর প্রথম ছক্কার পরপরই সাজঘরে ফিরতে হয়নি। একই ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজকে আবারো ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দেন, কেন দল তাকে ওপেনার হিসেবে পাঠিয়েছে। টানাদুই ছক্কার পরের বলেই হাঁকান চার।
ছন্দ ধরে রেখে পরের ওভারে আরও বিধ্বংসী মেজাজে হাজির হন ইমন। ফয়সাল আকরামকে প্রথম ৩ বলে হাঁকান টানা ৩টি ছক্কা। ৭ বলের ব্যবধানে ৫ ছক্কা হাঁকিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। প্রশংসায় ভাসান ধারাভাষ্যকাররা।
অল্পের জন্য অবশ্য হাফসেঞ্চুরির দেখা পাননি ইমন। ১৯ বলে পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ৪৫ রান করে ক্ষান্ত হন। আর এই ভয়ংকর ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে মুলতান।
ইমন সাজঘরে ফিরলেও ছন্দ হারাতে দেননি নাঈম। ২৮ বলে ৬০ রান করেন তিনি। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান দাঁড়ায় লাহোরের সংগ্রহ।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল মুলতান। ষষ্ঠ ওভারে বল পেয়ে মোস্তাফিজ সাজঘরে ফেরান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাহিবজাদা ফারহানকে। শান মাসুদ অবশ্য পরের ওভারে কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন ফিজের।
তবে নিজের তৃতীয় ও শেষ ওভারে ভয়ংকর হয়ে ওঠা শান মাসুদকে শিকার করেন কাটার মাস্টার। ১৮ বলে ৪৪ রান করা শান বিদায় নিলে জয়ের আশাও ফিকে হয়ে যায় মুলতানের। ম্যাচের গতিপথের কারণে অবশ্য তখন একটু খরুচে হয়ে ওঠেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভার শেষে খরচ ছিল ৩৭ রান। তবে মুলতান মাঠ ছাড়ে বড় পরাজয় নিয়েই।