মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি)
ডিমলা উপজেলার ছাতনাই এলাকায় ফেসবুক কমেন্ট কে কেন্দ্র করে একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় ঢুকে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন রায়হান নামের সেই ছাত্র দল নেতা। সেই পোস্টে কমেন্ট করেন মাদ্রাসা শিক্ষক এবং পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন শিবির সভাপতি।
সেই কমেন্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরই জেরে গতকাল ০৩ এপ্রিল রাত প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জন সহযোগী স্থানীয় হাফেজিয়া মাদরাসায় অতর্কিত প্রবেশ করেন।
ওই শিক্ষককে ক্লাস চলাকালীন সময়ে রুম থেকে ডেকে মাঠে এনে পোস্ট টা দেখায় এবং পোস্ট কারী রায়হান মারতে শুরু করে।
এ ঘঠনা দেখে ছাত্ররা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে অন্য শিক্ষকগন বাঁধা দিতে আসলে আরেকজন শিক্ষকের আঙুল ভেঙে দেয় তারা এবং তাদের আরও লোকজন চলে আসে সাথে এলাকাবাসী ও আসে ঘটনা সামাল দিতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক এবং শিবির নেতাকে রুমে আবদ্ধ করে রাখে এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা মাদরাসার এক শিক্ষকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।
মাদরাসা শিক্ষকের ওপর এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "একটি তুচ্ছ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার পক্ষ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে দাবি করা হলেও স্থানীয়রা হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তারা জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।