ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার দৌলতখানে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই শ্রমিককে আটক করেছে দৌলতখান থানা পুলিশ। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই শিশুটি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ট্রমা নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজপাতা গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শিশুটি তার আরও তিন সহপাঠীকে সাথে নিয়ে বাড়ির কাছের একটি দোকানে যাচ্ছিল। পথে স্থানীয় একটি রাস্তার পাশের পুকুরে মাটি কাটার কাজ করছিলেন চারজন শ্রমিক। শিশুদের ওই পথ দিয়ে যেতে দেখে হঠাৎ দুই শ্রমিক তাদের ধাওয়া দেয়।
ভয়ে অন্য শিশুরা দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ভুক্তভোগী শিশুটিকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে পাশের একটি নির্জন বাগানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয় বলে পরবর্তীতে ওই শিশুটি অভিযোগ করে।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ যে দুজনকে আটক করেছে তারা হলেন: মো: ফারুক, পিতা: নুরুল ইসলাম; তিনি চরপাতা ইউনিয়ন ০ ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।মো: ইব্রাহীম, পিতা: শাহাবুদ্দিন; তিনি পাশ্ববর্তী মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
তারা দুজনই পেশায় মাটি কাটার শ্রমিক এবং ঘটনার সময় ওই এলাকায় কাজ করছিলেন।
অভিযুক্তদের হাত থেকে কোনোমতে ছুটে পালিয়ে শিশুটি পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। অতিরিক্ত আতঙ্ক ও ট্রমার কারণে শিশুটি সেখানে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হাড়িয়ে ওই বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়।
তাত্ক্ষণিকভাবে ওই বাড়ির মহিলারা তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে জ্ঞান ফেরানোর পর শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই পরিবারের লোকজন তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জোনায়েত হোসেন জানান, শিশুটি ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে এবং সে প্রচণ্ড মানসিক ভীতির (ট্রমা) মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত মো: ফারুক এবং মো: ইব্রাহিমকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।