দেশের প্রান্তিক এলাকার টিকা কেন্দ্রগুলোতে হামের টিকার সঠিক সংরক্ষণ তাপমাত্রা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গ্যাভি থেকে প্রাপ্ত হামের টিকাগুলো ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু এই নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না রাখলে টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং শিশুদের শরীরে তা কোনো সুরক্ষা দিতে পারে না।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক উপজেলার টিকাকেন্দ্রে এই সংরক্ষণ পদ্ধতি মানা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
তিনি আরো জানান, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারা দেশে শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, তবে সফলতা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর। প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধ কোম্পানিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নচেৎ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ওষুধ কোম্পানির পণ্যে সঠিক উপাদান নেই এবং ভালো কিছু প্রতিষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি রয়েছে। এমনকি হামের টিকার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দিতে প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেন নিজেরাই স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছি। আগামী বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।’
পরিবেশদূষণের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাটারি পোড়ানোর মতো ক্ষতিকর কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং সব সেক্টরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য খাতের সব ধরনের দুর্নীতি শতভাগ নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং ওষুধ শিল্প—এই তিন খাতকে নৈতিকতার এক সূত্রে আবদ্ধ না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।