শফিকুল ইসলাম এর শত শত কোটি টাকার সম্পদ।

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১১:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১১:১০ অপরাহ্ন




নিজস্ব প্রতিবেদক।

ফরিদপুর জেলা রেজিস্টার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকা সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফরিদপুরে জেলা রেজিস্টার হিসেবে যোগদানের শুরু থেকেই সব নিয়ম পাল্টিয়ে, জেলা সাব রেজিস্টার এর ৯টি অফিস থেকে বেতন ছাড়াই প্রতিমাস মাসে পকেটে ঢুকছে কোটি কোটি টাকা।

সেই সাব রেজিস্ট্রি অফিস ১- ভাঙ্গা সাব রেজিস্ট্রি অফিস ২- সাল্থা সাবিত্রী অফিস ৩- ফরিদপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৪- মধুখালী সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৫- বোয়ালমারী সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৬- নগরকান্দা সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৭- চরভদ্রাসন সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৮- আলফাডাঙ্গা চাপ রেজিস্ট্রি অফিস ও ৯- সদরপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস।
রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিল সম্পাদন হয় প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার। আর এইসব দলিল প্রতিমাসে তিনি সরকারি কর্মচারী দের মাধ্যমে নাস্তার খরচ বাবদ ১০০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মাসে কোটি কোটি টাকা।


নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা সদরে কাঠপট্টি এলাকায় চার তলা আলিশান বাড়ি এবং কার্পাসডাঙ্গা বাজারে মার্কেটসহ আরও একটি চার তলা ভবন।

আট কবর এলাকা: এখানে রয়েছে মার্কেটসহ দুই তলা ভবন। এছাড়া জগন্নাথপুর নিজ গ্রামেও রয়েছে বিলাসবহুল দুই তলা বাড়ি।

রাজধানী ও অন্যান্য জেলা: ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বাড়ি ছাড়াও যশোর ও ঝিনাইদহে তার একাধিক বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে।

বেনামি সম্পদ: মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে ভাইয়ের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন তিনি।

ব্যবসা ও বিলাসিতা: ভাগিনা মোঃ হুমায়ুন আহমেদের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন কোটি টাকার ‘নেহা ত্বহা ট্রেডার্স’। এছাড়া নিজের চলাচলের জন্য ব্যবহার করেন বিলাসবহুল প্রাইভেট কার।

এছাড়াও তিনি সংগোপনে ব্যবহার করেন একাধিক বেনামী ব্যাংক একাউন্ট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ই আগষ্ট ২০২৪ জুলাই আন্দোলনের মুখ শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে শফিকুল ইসলাম আইজিআর অফিসের অনুমতি ছাড়াই আত্মগোপন করেন।। সে সময় দীর্ঘদিন যাবৎ অনুপস্থিত থাকার কারণে ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পরে ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল।

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ২৪ সালের ১০ই অক্টোবর ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন। তারপর থেকে তারই ছত্রছায়ায় ফরিদপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার সহ জেলার অন্যান্য সাব রেজিস্ট্রার গন ঘুষ দূর্নীতির অপ্ররোধ্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। যা ছাত্র জনতার হাতে ধরাও খায় এবং দুদকেও মামলা দায়ের হয় সাব রেজিস্ট্রার দের নামে, কিন্তু এই সমস্ত দূর্নীতির মাস্টারমাইন্ড সুচতুর শফিকুল পর্দার আড়াল থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এর আগে শেখ হাসিনার পেতাত্মা শফিকুল ইসলাম ” জুলাই বিপ্লব দমন”” করার মানসে কতিপয় অস্ত্রধারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সাথে রাতের আঁধারে গভীর চক্রান্ত ও শলাপরামর্শে লিপ্ত হন। তাছাড়াও ছাত্র জনতার ওই আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য বিশেষ মহলের ফোন পেয়ে মোটা অংকের টাকা লগ্নী করেন।

ওই সময় নাটোর জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে দুর্নীতির বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সুস্পষ্ট অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণও সরবরাহ করেছেন। তবে, অত্যন্ত হতাশাজনক বিষয় হলো, অভিযোগ দাখিলের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দুদক দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অভিযোগ করা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গড়ে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যা না দিলে দলিল বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া, জেলার প্রতিটি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।

দুদকের ভূমিকা ও ‘ম্যানেজ’ করার গুঞ্জন
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি হলো দুদকের কার্যক্রম নিয়ে। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দুদকের একটি প্রভাবশালী অংশ ও কতিপয় গণমাধ্যমকর্মীকে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেছেন শফিকুল ইসলাম। ফলে ঝুলে আছে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির ফাইল।

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে শফিকুল ইসলামের ব্যাবহৃত নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জনমনে প্রশ্ন: খুুঁটির জোর কোথায়?
একটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও অতীতে এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে সরকারি মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান কর্মস্থল কিশোরগঞ্জেও তার এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

ভুক্তভোগীরা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগী ও দলিল লেখক সমিতির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস শেষে তার সহকারী ও তাকে তল্লাশী করলে ” দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম” অবৈধ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে পারবে।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com