ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। ফলে দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বাইরে ছিল লিটন-শরিফুলরা। অবশেষে আজ দীর্ঘ ১৪৬ দিনের বিরতির পর আবারও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়।
আবদুল গাফফার সাকলাইন এবং রিপন মণ্ডলকে স্কোয়াডে রেখেই চমক দিয়েছে বাংলাদেশ। পেস ইউনিটে কিছুটা পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের স্কোয়াডে যেহেতু নেওয়া হয়েছে, ম্যাচও তো খেলাতে হবে। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও তাদের খেলানোর আভাস দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। ফলে দুজনের মধ্যে অন্তত একজনের একাদশে খেলা প্রায় নিশ্চিত বলা যায়।
সেই একজন রিপন হবেন নাকি সাকলাইন? মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং তানজিম হাসান সাকিবের সঙ্গে লড়াইটা জিততে পারলে একাদশে ঢুকে যেতে পারেন সাকলাইন। সঙ্গে বাকি দুই পেসার হিসেবে শরিফুল ইসলাম এবং রিপন মণ্ডলকে দেখা যেতে পারে। ব্যাটিংয়ে সবার জায়গা প্রায় ঠিক করাই। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধার অপেক্ষায় সাইফ হাসান। তিনে অধিনায়ক লিটন দাস, চারে খেলবেন পারভেজ হোসেন ইমন।
বাকি দুই জায়গায় তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর জায়গাও প্রায় নিশ্চিত। প্রথম ম্যাচে তাই বাইরে বসে থাকতে হতে পারে নুরুল হাসান সোহানকে। তিন স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন এবং নাসুম আহমেদের মধ্যে বাইরে থাকতে হতে পারে নাসুমকে, খেলতে পারেন রিশাদ এবং মেহেদী।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফর্মটা বেশ ভালোই বাংলাদেশ দলের। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারলেও জয় আছে পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, বিদেশে সিরিজ জয় আছে শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষেও।
চট্টগ্রামের রানপ্রসবা উইকেটে আগে ব্যাট করতে নামলে বড় রান পেতে হবে। পরে ব্যাট করলে বড় রান তাড়া করতে হবে। ব্যাটারদের জ্বলে ওঠার তাই কোনো বিকল্প নেই। সেই তুলনায় বোলিং নিয়ে কিছুটা নির্ভার থাকতে পারে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের মূল বোলারদের অনুপস্থিতিতে বাকি বোলারদের একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে এই সিরিজে। যারা স্কোয়াডে আছেন তারাও বেশ সামর্থ্যবান। পেস ইউনিট, স্পিন ইউনিট দুই বিভাগেই টাইগার বোলাররা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে আসছেন। এবার সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখার পালা। সঙ্গে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিতে আনকোরারা কেমন করেন তা-ও একবার চেখে দেখা যাবে।
নিউজিল্যান্ডের দলটাও ওয়ানডের মতো কিছুটা অনভিজ্ঞ। তবে যারা আছেন তাদের নিয়েই লড়তে চান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়েছে কিউইরা। টি-টোয়েন্টিতেও দুই দলের সেয়ানে সেয়ানে লড়াইই প্রত্যাশিত।
একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :
বাংলাদেশ : তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক এবং অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন/আবদুল গাফফার সাকলাইন/তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, শরিফুল ইসলাম, রিপন মণ্ডল।
নিউজিল্যান্ড : টম ল্যাথাম (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক), কাটেনে ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, জেডন লেনক্স, ইশ সোধি, বেন লিস্টার/ম্যাট ফিশার।