প্রথম পর্ব

রাজনৈতিক সুপারিশ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ

আপলোড সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০১:১৪:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর সাবেক এপিএস এবং মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর–এর সুপারিশে তিনি এ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন কাজের টেন্ডার ও বিল প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি এখনো একই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন? দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদ ভবন–এর সাউন্ড সিস্টেমে ধারাবাহিক ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অধিবেশনে মাইক্রোফোন ও হেডফোনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনতে বিঘ্ন ঘটে এবং অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। এমন একটি স্পর্শকাতর স্থাপনায় এ ধরনের কারিগরি ব্যর্থতা প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম ডিভিশন-৭-এর আওতাধীন ইএম উপ-বিভাগ-১৩–এর দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি সংসদ ভবন সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কার্যত এই বিভাগের মূল নিয়ন্ত্রণ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ রয়েছে। গত মার্চে সাউন্ড সিস্টেম সংক্রান্ত অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। অনেকের মতে, এতে করে প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসছে। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সংসদ ভবনের মতো সংরক্ষিত ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা জরুরি। কারণ, এটি শুধু আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশ্ন—প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে কী ভূমিকা পালন করছেন? অভিযোগসমূহ: ১. নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ২০২৩ সালে তিনি সংসদ ভবন সংশ্লিষ্ট ইএম উপ-বিভাগ-১৩–এ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে তার নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। ২. গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংসদ ভবনের ইলেকট্রিক্যাল ও সাউন্ড সিস্টেম সংক্রান্ত কাজের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেন। ৩. ভুয়া বিল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন কাজ, সরঞ্জাম ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী এসব অর্থ বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। ৪. সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে বারবার ত্রুটির ঘটনায় তার তদারকি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জাম ও অনিয়মিত ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫. প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৬. দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক সংসদ ভবনের মতো সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ________________________________________ বিশ্লেষণ: এ ধরনের অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং দায় নির্ধারণ করা যায়।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com