এবারের বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের ভালো মানের বেশ কিছু ক্রিকেটার নেই। কিন্তু প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, অনেক সময় তুুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষেও এভাবে রান তাড়া করতে পারে না বাংলাদেশ। কিন্তু আজ যেন প্রতিপক্ষের তৈরি করা চাপকে রীতিমতো তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে লিটন দাসের দল।
যার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের। যার ব্যাটিংয়ে আজ মুগ্ধ-বিমোহিত হয়েছে বাংলাদেশের কোটি ভক্ত-অনুরাগী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আজ তাওহীদ হৃদয় যখন ক্রিজে এসেছেন, প্রয়োজনীয় রান রেট হু হু করে বাড়তে থাকে তখন। অন্যদিকে অপর প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম একেকটি রানের জন্য ধুঁকছেন। চাপের মুখে ক্রিজে নেমে বাংলাদেশকে এমনভাবে জিতিয়েছেন হৃদয়, স্কোর কার্ড দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এতটা চাপে ছিল টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক জানান রহস্য। হৃদয়ের মতে, ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেই সফল হয়েছেন তিনি; জিতিয়েছেন দলকেও। হৃদয় বলেন, ‘হ্যাঁ খুব ভালো উইকেট ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। যখন রান আসছিল না, আমি ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছিলাম। সেই পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তখন আমাদের রান প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই আক্রমণ করেছি।
চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৮৩ রান। ৬ উইকেট ও ২ ওভার হাতে রেখেই টাইগাররা লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ২৭ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন হৃদয়, হাঁকান দুটি চার ও তিনটি ছক্কা।
চাপের মুখে আগ্রাসী ব্যাটিং কেন বেছে নিলেন, তা খোলাসা করেছেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘কথায় আছে না, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। তো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে আপনি যদি বেশি বো ডাউন থাকেন আসলে হয় না।’
আগ্রাসী ক্রিকেটের শুরুটা করে দিয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। এজন্য সতীর্থকে কুর্নিশ জানিয়ে হৃদয় বলেন, ‘ইমন যেটা করেছে ও খুব রাইট চুজটা করেছে এবং খুব ক্লিয়ার মাইন্ড ছিল। এবং আমিও দুই-একটা ইনফরমেশন ওকে দিয়েছি যে এদিক দিয়ে ওদিক দিয়ে ট্রাই করলে ভালো হয়। ওর এক্সিকিউশনটা অনেক ভালো ছিল।’
পাওয়ারপ্লেতে টপ অর্ডার ভালো করতে না পারলেও হৃদয় একে খেলার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ওটা পার্ট অব গেম। একদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে, একদিন মিডল অর্ডার খারাপ হবে, এমনই। তো যেদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে না সেদিন অবশ্যই মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আবার যেদিন পাওয়ারপ্লে ভালো করে সেদিনও দায়িত্ব থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা যেহেতু একটা টিম গেম, রেগুলার সবাই ভালো করে না, এটাই খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা ওয়েল রিকভার করেছি আলহামদুলিল্লাহ্। রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। জাস্ট আমার প্ল্যান ছিল যে আমি অ্যাটাক করবো। কারণ ওখানে যদি অ্যাটাক না করতে পারি তাহলে হয়ত টাফ হয়ে যেত টিমের জন্য। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু অ্যাটাক করা যায়।’
শেষদিকে জয় আরও সহজ হয়ে যায় শামীম হোসেন পাটোয়ারির কল্যাণে, যিনি ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন। হৃদয়ের কাজ সহজ করে দেন তিনি। তাই স্বভাবতই হৃদয় প্রশংসা করেছেন সতীর্থের। হৃদয় বলেন, ‘শামীম অত্যন্ত ভালো খেলেছে। এসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে।’