শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর এলাকায় প্রায় ৯ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ এখন আদালতে। চেক ডিজঅনার মামলার পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ এনামুল হকের অভিযোগ, পারিবারিক আস্থার ভিত্তিতে তিনি মনোয়ারা বেগমকে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ধার দেন। দীর্ঘ সময়েও টাকা পরিশোধ না করায় মনোয়ারা বেগম ওই অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে একটি ব্যাংক চেক প্রদান করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে তা ‘ডিশঅনর’ হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, হিসাবটি বন্ধ বা অকার্যকর থাকায় চেকটি নগদায়ন সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এনামুল হকের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়েও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (N.I. Act) অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
এনামুল হক বলেন,
“আমি সম্পূর্ণ বৈধভাবে টাকা দিয়েছি এবং প্রমাণস্বরূপ চেক নিয়েছি। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।”
তার দাবি, মনোয়ারা বেগম ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছেন।
অন্যদিকে মনোয়ারা বেগম সম্প্রতি থানায় দাখিল করা একটি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গণেশপুরে যাওয়ার পথে মোকামতলা–জয়পুরহাট সড়কের কাশিপুর এলাকায় তার পথরোধ করে এনামুল হক ও কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তার কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনু্জ্জামান বলেন, “মনোয়ারা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এনামুল হক এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য (মহিলা মেম্বার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসীর একটি অংশ দাবি করছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এবং পরবর্তীতে তা ফেরত না দেওয়া।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে কিছুদিন আগে গণেশপুর এলাকায় মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। যদিও পাল্টা হিসেবে মনোয়ারা বেগমও একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন বলে জানা গেছে।