‎কাগজে ‘পরিত্যক্ত’, বাস্তবে রমরমা বাণিজ্য: ডিএনসিসি’র ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে অবৈধ কমিটির রাজত্ব ও নির্বাচন ‎

আপলোড সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০২:০৮:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০২:০৮:২৬ অপরাহ্ন
‎এম এস রহমান ‎ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সরকারি নথিতে মার্কেটগুলো ‘পরিত্যক্ত’ এবং ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। বুয়েটের রিপোর্টের ভিত্তিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও হয়েছে বহু আগে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিত্যক্ত এসব ভবনেই চলছে রমরমা ব্যবসা, নিয়মিত গঠন হচ্ছে বণিক সমিতির কার্যকরী কমিটি এবং ঘটা করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন! ‎ ‎ডিএনসিসির খাতায় মার্কেটগুলোর অস্তিত্ব না থাকায় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে। আর এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা ও ইন্ধন নিয়েও উঠেছে জোরালো প্রশ্ন। ‎ ‎ ‎ডিএনসিসির ১৬ মার্চ ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, বুয়েট কর্তৃক ডিএনসিসির মালিকানাধীন মোট ১৮টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি এবং ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত একাধিক সভার সিদ্ধান্তে ৫টি মার্কেটের ৮টি ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এই ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে— মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট (পাকা ও কাঁচা মার্কেট), গুলশান কাঁচা মার্কেট (উত্তর), গুলশান পাকা মার্কেট (দক্ষিণ), রায়ের বাজার মার্কেট, কারওয়ান বাজার মার্কেট (কিচেন মার্কেট), কারওয়ান বাজার ১নং ও ২নং ভবন মার্কেট এবং কারওয়ান বাজার আড়ৎ মার্কেট। ‎ ‎সভায় সুস্পষ্টভাবে এই পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন আজও হয়নি। ‎ ‎ ‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেটগুলোতে ব্যবসা তো চলছেই, উল্টো সেখানে দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘বণিক সমিতি’। সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদের নেতাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সম্বলিত তালিকাও প্রকাশ্যে টানানো থাকছে। এমনকি নিয়মিত বিরতিতে এসব পরিত্যক্ত মার্কেটে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‎ ‎আইনজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি সরকারি স্থাপনাকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে 'পরিত্যক্ত' ও 'বিপজ্জনক' ঘোষণা করা হয়, তখন আইনিভাবে সেখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলার সুযোগ নেই। আর যেখানে মার্কেটটিরই কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই, সেখানে ওই মার্কেটের নামে কোনো ‘কার্যকরী কমিটি’ গঠন বা ‘নির্বাচন’ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত। এটি মূলত সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রাখার একটি কৌশল মাত্র। ‎ ‎ ‎মার্কেটগুলো সিটি কর্পোরেশনের খাতায় পরিত্যক্ত হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিএনসিসি কোনো বৈধ ভাড়া বা রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। ফলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ঠিকই মোটা অংকের চাঁদা বা ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা যাচ্ছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বণিক সমিতির নেতা ও পর্দার আড়ালের প্রভাবশালীদের পকেটে। ‎ ‎প্রশ্ন উঠেছে, চোখের সামনে বছরের পর বছর একটি পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এত বড় বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অবৈধ নির্বাচন কীভাবে চলছে? ডিএনসিসির আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়োজিত জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার (আঞ্চলিক কর্মকর্তা) এবং সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারেন না। তাদের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কার্যক্রম চললেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। ‎ ‎সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিএনসিসির এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে অবৈধ কমিটির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। কর্মকর্তারা নিজেদের দায় এড়াতে কেবল ‘কাগজে-কলমে’ নোটিশ বা সভার কার্যবিবরণী করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন, বাস্তবে উচ্ছেদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ‎ ‎এবিষয়ে আঞ্চল-৫ নির্বাহী কর্মকর্তা ম, সাদিকুর রহমান এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন আমরা একাধিক নোটিশ দিয়েও তাদের এস্থান পরিবর্তন করাতে পারিনি। এমনকি নোটিশ টানানোর কিছুক্ষন পরে খূজেপাওয়া যযায়না। ‎ ‎যেকোনো মুহূর্তে রানা প্লাজার মতো ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে গেলে এই হাজারো মানুষের মৃত্যুর দায় কে নেবে— সেই প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‎

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com