।
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৭,০৬৮টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের প্রায় ৫,৫৬৬ টি মামলার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে মাধ্যমে জানা যায়।
ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই শিশু ও কিশোরী। ২০২৫ সালে মোট ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় ১,৮৯৭ জন শিশু/কিশোরী এবং ৫,১৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মোট ৯,১৪৩টি ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ মূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঃ সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা; বাস্তবে আরও অনেক ঘটনা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে প্রকাশ পায় না। দেশের বিভিন্ন জেলা গাজীপুর,চট্টগ্রাম,যশোর,কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ,নোয়াখালীসহ ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা নিয়মিতভাবে আলোচনায় আসছে।
তবে বাংলাদেশ পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা থেকে জেলা ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ না হওয়ায় নির্দিষ্টভাবে জেলার সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। নারী অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, সামাজিক লজ্জা, ভয়ভীতি, প্রভাবশালীদের চাপ এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ঘটনাই মামলা পর্যন্ত গড়ায় না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি ভয়াবহ ,এদিকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে, ধর্ষণের ঘটনায় ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের দুর্বল প্রয়োগ অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। সচেতন মহলের দাবি, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, মানসিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কার্যকর পথ কী? সম্প্রতি মিরপুরে ঘটে যাওয়া লামিসাকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায়, সাধারণ মানুষের মাঝে আরো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ব্যাপক আকারে তৈরি হয়েছে।
তাই এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।