স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মুগদা এলাকার মানিকনগরজুড়ে কথিত মাদক সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া এবং একাংশের সাংবাদিক জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মী প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, অভিযোগকারী মো. আল-আমিন (৩৮), একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার দাবি, এলাকাভিত্তিক মাদক বাণিজ্য, কথিত চাঁদাবাজি ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করার পর থেকে তিনি ভয়ভীতি, অশোভন আচরণ এবং হুমকির মুখে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে বিকেলে মানিকনগর এলাকায় অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে তাকে গালিগালাজ, প্রাণনাশের ভয়ভীতি এবং পরিবারের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, হুমকিদাতা ব্যক্তি নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিয়েছেন।
এ ঘটনায় মুগদা থানা-য় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগকারী বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত সুরক্ষা চাই।”
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মানিকনগরের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, প্রভাব বিস্তার এবং কথিত চাঁদাবাজি চলছে। বিশ্বরোড, চান্দা গলি, কুমিল্লা পট্টি, ওয়াসা রোড ও বালুর মাঠসংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদক লেনদেনের অভিযোগ বহুদিনের বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং তাদের ছত্রছায়ায় অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয়ভাবে একজন সাংবাদিক মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষে তদবির করেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টির হুমকির ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত সাংবাদিকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “মাদকবিরোধী অভিযান হলেও সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছে।” তারা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।