মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন
বিশেষ প্রতিনিধি:
১০ জুন, ২০২৬
নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়ন এবং নিয়োগ কার্যক্রমের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবিতে আজ ১০ জুন (২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুরুল হক চৌধুরী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ ব্যাচের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকবৃন্দ'-এর ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আকুল আবেদন জানান।
প্রধান দাবিসমূহ:
আলোচনা সভায় শিক্ষকেরা তাদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানত তিনটি দাবি পেশ করেন:
১. দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়ন: নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর আলোকে কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে অবিলম্বে শূন্য পদে পদায়ন করতে হবে।
২. স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ: নিয়োগ ও পদায়ন কার্যক্রম কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।
৩. NSI Report সংক্রান্ত স্বচ্ছ ব্যাখ্যা: নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (NSI) প্রতিবেদনের বর্তমান অবস্থা ও প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা দূর করতে কতৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়, যেন কোনো যোগ্য প্রার্থী অযথা হয়রানির শিকার না হন।
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বক্তব্য:
"সব ধরনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও পদায়নের অপেক্ষায় আমাদের দীর্ঘ সময় পার করতে হচ্ছে। আমরা ২০২৫ ব্যাচের ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষক আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি যেন অতি দ্রুত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আমাদের পদায়ন নিশ্চিত করা হয়।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে পদায়ন থমকে থাকায় হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর পরিবারে মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। একই সাথে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের শূন্যতা তৈরি হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষকেরা জানান, তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং তারা আশা করেন সরকার অতি দ্রুত তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।