স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জের
বানিয়াচং ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে নার্স, ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগীরা। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব পালনে ইউএইচওর অবহেলা এবং অফিস হেডক্লার্কের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন উপজেলাবাসী। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও এন্ড এফপিও ডাঃ শামীমা আক্তার জেলা শহরে বসবাস করেন। সেখান থেকেই অনিয়মিত বানিয়াচং এসে অফিস করেন। ১০ টায় এসে ১ টায় জেলা শহরে চলে যান। এতে হাসপাতাল পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা দিয়েছে। তাছাড়া জেলা শহরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন তিনি। এতে জেলাজুড়ে বানিজ্যিক ডাক্তার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএইচও প্রতিদিন স্টেশন ত্যাগ করতে পারেন কিনা এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডগুলোতে অপরিচ্ছন্নতা,দেয়ালে শ্যাওলা,বিশুদ্ধ পানির সংকট ও ছাদের আস্তরণ খসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত ঔষধ সংকটসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা। মহিলা ওয়ার্ডের রোগীরা বলেন, হাসপাতালের বেশিরভাগ পানির ট্যাব বিকল হয়ে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সগুলো ডেলিভারি ও ব্যাক্তিগত আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা গেছে। চিকিৎসকরাও দায়িত্বে অবহেলা করেন। তাছাড়া ওয়ার্ডগুলোতে দূর্গন্ধ সবসময় লেগেই থাকে। এতে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে অনেকে বাধ্য হয়েই রেফার নিয়ে জেলা শহরে চলে যাচ্ছেন। শহিদুল ইসলাম নামে ভুক্তভোগী বলেন, পেট ব্যাথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসার পরিবেশ দেখে তিনি তাড়াতাড়ি জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বানিয়াচং হাসপাতালের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুবদল নেতা সুহেল বলেন, হাসপাতালের পুকুরসহ নিজস্ব কিছু আয়ের উৎস রয়েছে। তাছাড়া মেইন্টেন্যান্স বাবদ প্রতিবছরই সরকারি বরাদ্দ আসে। অথচ হাসপাতালের দেয়ালে শ্যাওলা,আস্তরণে ফাটল,পানি সংকট,ওয়ার্ডগুলোতে দূর্গন্ধসহ নানাবিধ সমস্যা লেগেই আছে। তাহলে পুকুর লীজ ও বরাদ্দের টাকা কোথায় উধাও হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অপরদিকে এক অনুসন্ধানে জানা যায়, বানিয়াচং হাসপাতালের প্রধান সহকারী গোবিন্দ লাল দাস অফিসিয়াল দিক পরিচালনা করে থাকেন। উনার হাতের মাধ্যমেই মেইন্টেন্যান্স বাবদ বরাদ্দগুলো খরচ করা হয়। এছাড়াও গোবিন্দ লাল দাসের জেলা শহরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেই সম্পদ বৈধ নাকি অবৈধ এনিয়েও তীব্র গুঞ্জণ ছড়াচ্ছে। সচেতন মহল ধারণা করছেন দীর্ঘদিন হাসপাতালে চাকুরি করে এখন মালে মালামাল হয়ে গেছেন প্রধান সহকারী গোবিন্দ লাল। তার সম্পদ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের জন্য দুদকের দৃষ্টি কামনা করেছেন অনেকে।এব্যাপারে জানতে রাত ৯.২৬ মিনিটে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও এন্ড এফপিও ডাঃ শামীমা আক্তারের সরকারি নম্বরে কল দিলে কল রিসিভ হয়নি। এজন্য বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।উল্লেখ্য- গত ১২ই জুন শুক্রবার এক প্রসূতি নারী বানিয়াচং হাসপাতালে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন। পরে সদর হসপিটালে ওই নারী সংকটাপন্ন হয়ে এক আহত শিশু প্রসব করেছেন। এ-খবরে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছেন। অপচিকিৎসার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বাস্থ্যখাতে দ্রুত উন্নতি করণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন স্হানীয়রা