খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আতাহার আলী খানের চাকরিজীবন শুরু হয় ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর এক নজিরবিহীন প্রক্রিয়ায়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে মাত্র এক দিনের মধ্যে পরীক্ষা, ভাইভা ও নিয়োগ সম্পন্ন করে তাকে রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে প্রথমবার বরখাস্ত করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে পুনর্বহাল হলেও ২০২০ সালের ২০ মে ততকালীন মেয়রের শুদ্ধি অভিযানে তাকে দ্বিতীয়বার চাকরিচ্যুত করা হয়।
জালিয়াতি, সনদ কারসাজি, দোকান বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে দুই দফায় চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও মো. আতাহার আলী খান এখনো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালতের মামলা, দুদকের চার্জশিট অনুমোদন এবং একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরও তার পুনর্বহাল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় কর্পোরেশনের ভেতরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অফিসিয়াল দলিল অনুসারে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তিনি আবারো পুনর্বহাল হন। ওই বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বদলি করলেও তিনি যোগদান না করে আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ আনেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাকে ছাড়পত্র দিলেও অফিসে যোগ দিয়ে তিনি নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে থাকেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। দুই দফায় চাকরিচ্যুত মো. আতাহার আলী খানকে রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়ন করা হয়।
অভিযোগ অনুসারে, তার বি.কম ও এম.কম সনদের সেশন একই (১৯৯৫-৯৬)। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরবিহীন সনদ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নিজ পদের অপব্যবহার করে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ৮১ নম্বর দোকান ও গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারের ১৬০০ নম্বর দোকানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক দোকান বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির অফিসিয়াল চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১০ সালের মামলা নং ৬৪ এবং বিশেষ জজ আদালত-২ এ চলমান মামলা নং ০২/২০২১ ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন প্রদান করে। দুদকের দলিলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, দণ্ডবিধি ও মানিলন্ডারিং আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ ধরনের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছে, সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগে বারবার বরখাস্ত ব্যক্তির রহস্যময় পুনর্বহাল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ার স্পষ্ট প্রমাণ। এ ধরনের ঘটনা জনগণের আস্থা নষ্ট করে এবং সুশাসনের পথে বড় অন্তরায়। দুদকের চলমান তদন্তকে আরো জোরদার করতে হবে এবং দায়ী সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিএসসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা আতাহার আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সবকিছুই ঠিক আছে। আমি আইনি প্রক্রিয়ায়ই এখানে বহাল আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরাও শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আদালতে মামলা থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।