রাজধানীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসার’ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অভিজাত এলাকা গুলশানে বাহার, রত্না ও মোস্তফা স্পা সেন্টারের নামে চালাচ্ছে ভয়ংকর মাদক ও দেহব্যবসা।
চক্রটি গুলশানের ৯৯ নং রোডের ৩৩/এ বাড়ির লিফটের ৬ এবং ৪৫ নং রোডের ৩৩ নং বাড়ির লিফটের ৩ এ তরুণীদের দিয়ে গ্রাহকদের স্পা করার সেই ছবি ধারণ করে পরবর্তীতে সেই ছবি নিয়ে চালায় ব্ল্যাকমেইল।
কিছুদিন আগে গুলশানের অভিজাত এসব এলাকায় এ ধরনের অনেক গুলো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকার অভিজাত এ এলাকার অসামাজিক, ভয়ংকর এই অন্ধকার ব্যবসার খবর জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারি বৃদ্ধি করে। অভিযোগের সূত্র ধরে ডিবির অনুসন্ধানে উঠে আসে, সিটি কর্পোরেশন থেকে নামে-বেনামে ‘ট্রেড লাইসেন্স’ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে কতিপয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা ।
প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স নেয়ার পর কী ব্যবসা করবে অথবা কী ধরনের ব্যবসা করছে তার যাচাই-বাছাই করছে না সিটি কর্পোরেশন। এ সুযোগে বাহার, রত্না ও মোস্তফা ফিটনেস ও থেরাপি সেন্টার খুলে এর আড়ালে চালাচ্ছে রমরমা মাদক ও দেহব্যবসা।
গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর এবছরের শুরুর দিকে গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়। কিন্তু, বাহার, রত্না ও মোস্তফার স্পা সেন্টারেতে একাধিকবার অভিযান করেও সেটি বন্ধ করতে পারেনি পুলিশ।
‘পতিতাবৃত্তি’ ও ‘দাসত্বে’বাধ্য করায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর আওতায় তাদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্প্রতি গুলশান এলাকায় বেশ কয়েক জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশ আরো জানতে পারে, গুলশান এলাকায় কমপক্ষে ২০ টি স্পা ও থেরাপি সেন্টার রয়েছে। তার মধ্য বেশীর ভাগ গুলশান এলাকায়। স্পা সেন্টারের আড়ালে চলে মাদক ও দেহ ব্যবসা। স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রভাবশালী কয়েকজনের মদদে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাহার, রত্না ও মোস্তফার স্পা সেন্টারের নাম উঠে এসেছে।
গুলশানের একটি স্পা সেলুনে সার্ভিস নিতে গিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘শরীর ম্যাসেজ করানোর সময় আমাকে না জানিয়ে আপত্তিকর ছবি ধারণ করা হয়। এর কয়েক দিন পর আমাকে ফোনে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ৫ লাখ টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে আমি টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করি এবং পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগও করি।
ডিবির তদন্তে জানা গেছে, গুলশান এলাকার বেশ কিছু স্পা সেন্টার তাদের ব্যবসার আড়ালে দেহ ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে। বডি ম্যাসাজের নামে দেহব্যবসা ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন অনেক স্পা সেন্টার।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিজাত এলাকায় স্পা ও থেরাপি সেন্টারের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নানা অপরাধ ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। একটি সভ্য সমাজে ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে পারে না।’
গুলশানে অবৈধ এসব ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত ইসলাম শামীম বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা খুবই কঠোর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সবসময় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়া এসবের দ্বারা কেউ যাতে ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান ও আইজি আব্দুল্লাহ আল মামুন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগীরা।