শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
পদ্মা সেতুর দক্ষিণপ্রান্তে শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকায় মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বাসপ্রতি নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে পরিবহন খাতের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়ছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার লাখো যাত্রী।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন স্বাধীন পরিবহন, বসুমতি, প্রচেষ্টা, মাওয়া ইলিশ, ইলিশ স্পেশাল, আনন্দ পরিবহন, নড়াইল এক্সপ্রেস, বরিশাল এক্সপ্রেস, পালকী পরিবহনসহ প্রায় অর্ধশত পরিবহনের এক হাজারেরও বেশি বাস চলাচল করে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ‘জিপি’ (গেটলক পাস) বা ট্রিপ নিয়ন্ত্রণের নামে প্রতিবার স্ট্যান্ড অতিক্রমের সময় প্রতিটি বাস থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। পাশাপাশি খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী বাসে যাত্রী গণনার অজুহাতে চালক ও হেলপারদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের জমাদ্দার বাস স্ট্যান্ড, ঢাকা বাস স্ট্যান্ড ও ঢাকা লোকাল বাস স্ট্যান্ড—এই তিনটি পয়েন্টে প্রকাশ্যেই চাঁদা তোলা হচ্ছে। পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাসে যাত্রী তুলতে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ট্যান্ডে আটকে রেখে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকার টেম্পু স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণকারী ‘চাপাতি সামচু’ নামে পরিচিত সামচুল হক বেপারীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর নাওডোবা এলাকাকে কেন্দ্র করে তারা চাঁদাবাজির একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বাবু চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কয়েকটি বাসের মালিক ও রোড সেক্রেটারি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এদিকে নাওডোবা ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, চাঁদাবাজদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, মহাসড়কে বাস থামিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, "সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"