ডেক্স রিপোর্ট :
রাজনীতির পথটা সবার জন্য মসৃণ হয় না। কারও কারও জীবনে তা আসে চরম ত্যাগ, অশ্রু আর অগ্নিপরীক্ষার খতিয়ান হয়ে। তেমনই এক লড়াকু ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মীর নাম মনোয়ার হোসেন জীবন। যিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩০ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি এক আবেগঘন বক্তব্য রাখেন তিনি। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, কোনো মিথ্যা অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারবে না।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে পথ চলছেন মনোয়ার হোসেন জীবন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের দীর্ঘ ও দুর্বিষহ রাজনৈতিক সংকটে বহু ঝড়-তুফান এসেছে, কিন্তু আমি কখনো দলের আদর্শ থেকে সরে আসিনি।
দলের দুঃসময়ে যখন অনেকে নিজেকে আড়ালে রাখতেই ব্যস্ত ছিল, তখন আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছি। নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে জলাঞ্জলি দিয়েও দলের প্রতি আনুগত্যে কোনো চির ধরতে দিইনি।
নিজের ফেলে আসা রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই নেতা। তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে এক চরম মানবিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যখন তিনি অন্ধকার কারাগারে বন্দি, ঠিক তখনই দুনিয়া ছেড়ে চলে যান তাঁর জন্মদাত্রী মা। মায়ের শেষ মুখটি দেখার জন্য বুকফাটা আর্তনাদ সত্ত্বেও নিয়তি তাঁকে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিল।
সেই এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সময়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়ে আবার তাঁকে ফিরে যেতে হয়েছিল চার দেয়ালের বন্দিশালায়। শুধু তাই নয়, নিজের প্রথম সন্তানের পৃথিবীর আলো দেখার সেই মাহেন্দ্রক্ষণেও পিতার দায়িত্বে পাশে থাকতে পারেননি তিনি সহ্য করতে হয়েছে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা।
স্মৃতিগুলো হাতড়ে তিনি বলেন, এত বড় বড় ত্যাগের পরও আমি কখনো দলের সাথে, নেত্রীর সাথে বেইমানি করার কথা কল্পনাও করিনি। আজীবন এই আদর্শ ধারণ করেই মানুষের সেবা করে যেতে চাই।
তাঁর এই ত্যাগ ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মনোয়ার হোসেন জীবন। তবে নিন্দুকদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই।
অত্যন্ত শান্ত ও মার্জিত সুরে তিনি বলেন, সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না, আলো আসবেই। আমি কারও প্রতি কোনো হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করি না। যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, আমি বরং সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের সুবুদ্ধি ও হেদায়েত কামনা করি।