জাহিদুল আলম,
ঢাকা টানা ভারী বর্ষণে রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলজট ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও সড়কে জমে থাকা পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, আবার আজিমপুর এলাকায় উপড়ে পড়া একটি বড় গাছ বন্ধ করে দেয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এমন পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন এবং সড়ক সচল রাখতে ভোর থেকেই মাঠে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ডভিত্তিক ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সর্বশেষ ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসে সর্বোচ্চ। পূর্বাভাসে দিনভর আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
ডিএসসিসি জানায়, জলজট দ্রুত কমাতে কমলাপুরের দুটি এবং ধোলাইখালের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো পরিষ্কার রাখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি সাড়া–দল কাজ করছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আজিমপুরে ইডেন মহিলা কলেজের ২ নম্বর গেটের বিপরীত পাশে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করেন। হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে তিনি কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় গাছটি অপসারণের পর দুপুর ১টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকালের পর থেকেই প্রশাসক রাজধানীর দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন সড়ক, গলি ও জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। চলমান পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের অগ্রগতিও সরেজমিনে দেখেন তিনি।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, “টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কর্মীরা ভোর থেকেই মাঠে রয়েছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে ডিএসসিসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ওয়াসা, ডিপিডিসি ও তিতাসের চলমান রাস্তা খননের কারণে তৈরি গর্ত এবং বিভিন্ন স্থানের ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ বর্ষাকালে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এসব এলাকা এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।