যুক্তরাজ্যে শনাক্ত ২৫ মিলিয়ন ডলার
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) শওকত আলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা) শনাক্ত করে। অর্থের উৎস নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় সংস্থাটি চার সপ্তাহের জন্য অর্থটি আটকে রেখে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় অর্থ আটকে রাখার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে অর্থটি যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়, ফলে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কর রিটার্নে সম্পদ ঘোষণা
গত ৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান বিদেশে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সম্পদ শনাক্ত হওয়ার কথা জানালেও মালিকের নাম প্রকাশ করেননি। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্পদটি শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশি সম্পদের অনুসন্ধান চলাকালে এই অর্থের তথ্য সামনে আসে। একই সময়ে শওকত আলী তাঁর কর রিটার্নে ওই সম্পদ ঘোষণা করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ করবর্ষে ওই ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশ
গত ১১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, এনবিআর, দুদক ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে যুক্তরাজ্যের দেওয়া চার সপ্তাহের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানান।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষ হলে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এনপিবিকে জানিয়েছেন, 'অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়ে জানি না। আমাদের সাথে ইউকে থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না আমি জানি না। কারণ তখন আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না। শুধু জানি, ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন শওকত আলী।'