‘
ঘুষ না দিলে মেলে না ভোগ্যপণের ‘হালাল সনদ’। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। গত ১৯ জুলাই ‘হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তারা এ অভিযোগ তোলেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে হালাল সনদ নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়। অনিয়মের মুখোমুখি হতে হয়। ‘হালাল’ সনদ নিতে গিয়ে কখনো গাড়ি, কখনো টাকা, আবার কখনো সম্ভাব্য রফতানির পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ দাবি করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশি হালাল সনদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
প্রায় অভিন্ন অভিযোগ তুলে বোম্বে সুইটসের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ বলেন, একসময় একটি হালাল সনদ পেতে ১৬-১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতো। বর্তমানে কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের সনদ সৌদিতে গ্রহণযোগ্য না। ফলে বাধ্য হয়ে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর থেকে ‘হালাল সনদ’ নিতে হচ্ছে।
বিসিআইয়ের পরিচালক ও ইজি ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার বলেন, বিএসটিআই থেকে হালাল সনদ আনতে গেলে তারা বলে গাড়ি দাও, টাকা দাও। কত টন রফতানি হবে, সে অনুপাতে বখরা দাও।
এ হেন দুর্নীতিপ্রবণ প্রতিষ্ঠানের (বিএসটিআই) বর্তমান মহাপরিচালক (চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব) কাজী ইমদাদুল হক। দৌড়-ঝাঁপ করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান কিংবা নিদেনপক্ষে কমিশনার হওয়ার জন্য। ট্যাক্স ক্যাডারের এ কর্মকর্তা এরই মধ্যে দুদক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘সার্চ কমিটি’তে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এখন সরকারের উচ্চ মহলে শুরু করেছেন তদবিরও। তার অতীত কর্মজীবন যেমন পঙ্কিল তেমনই বিতর্কিত বলে জানা গেছে। ট্যাক্স ক্যাডারের এ কর্মকর্তা মেধাবী হলেও অত্যন্ত বিতর্কিত। ‘কালো টাকা’ নামে গবেষণাধর্মী বই লিখলেও তিনি নিজেই বিপুল কালোটাকার মালিক-মর্মে অভিযোগ রয়েছে।
বিসিএস (কর) ৭ম ব্যাচের এ সিনিয়র কর্মকর্তা ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। বিভিন্ন সময় জাতীয় রাজস্ববোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে চাকরি করেন। তিনি ট্যাক্স আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। জাতীয় রাজস্ববোর্ড (এনবিআর) কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি এনবিআর-এর লার্জ ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিটের (এলটিইউ) অতিরিক্ত কর কমিশনার ছিলেন।
২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালিন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকের কর্মজীবনে দু’হাতে লুটেছেন অর্থ। এ অর্থে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গা এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নামে- বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর নিকুঞ্জে রয়েছে সুরম্য বাড়ি। বাড়ির বেসমেন্ট নির্মাণেই ৫ কোটি টাকার মতো খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। দুদকের সন্নিকটেই কাকরাইল ‘কমির টাওয়ার’ এবং ‘গ্রীন সিটি রিজেন্সীতে দু’টি বাণিজ্যিক স্পেস রয়েছে। এ দু’টির মূল্যই ১০ কোটি টাকার মতো।
রাজধানীর ‘বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৫ কাঠা করে ২টি প্লট। এ দু’টির মূল্য সাড়ে ৯ কোটি টাকার মতো। পূর্বাচলে রয়েছে ৫ কাঠার প্লট। রাজধানীর পরীবাগ ‘দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্ট’ এ রয়েছে ৪ হাজার বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাট। এটির মূল্য ৭ কোটি টাকার মতো।
কাজী ইমদাদুল হকের দুই সন্তানের পড়াশুনা করান কানাডা ও বৃটেনে। তাদের পেছনে খরচ করেন অন্তত: ৬ কোটি টাকা। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। ৭ বেডের এ ভবনে পেছনে খরচ করেছেন ২ কোটি টাকা। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে রয়েছে মার্কেট। এটির মূল্য ১০ কোটি টাকার মতো। তার স্ত্রী বছরে অন্তত ৪ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন বিজনেস ক্লাসে। ব্যাংকে এফডিআর এবং বিপুল নগদ অর্থতো রয়েছেই। বিগত সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে সেটি এখন ধামাচাপা।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএসটিআই মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিএসটিআই'র নব্য মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়া কাজী ইমদাদুল হকের রয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। শুনা যাচ্ছে বিএসটিআই ডিজি পদের জন্য তিনি বিশাল বিনিয়োগ করেছেন।
মহারাজের অবৈধ সম্পদের সামান্য কিছু তালিকা :
১) ঢাকার অভিজাত নিকুঞ্জ এলাকায়
অভিজাত বাডী যার শুধুমাত্র
আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি।
২) কাকরাইলে করিম টাওয়ারে ও গ্রীন সিটি
রিজেন্সীতে দুইটি বানিজ্যিক স্পেস। যার
মূল্য ৫x২ = ১০ কোটি।
৩) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২টি পাঁচ
কাঠার প্লট।যার মূল্য ৯.৫০ কোটি।
৪) পূর্বাচলে একটি ৫ কাঠার প্লট।
৫) পরিবাগের দিগন্তে ৪,০০০ বর্গফুটের ৭
কোটি টাকার একটি এপার্টম্যান্ট।
৬) ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই সন্তানকে
কানাডা ও বৃটেনে শিক্ষাদান।
৭) মোহনগঞ্জ গ্রামের বাডীতে ৮ বেড রুমের
দ্বিতল বাডী। যার মূল্য ২ কোটি।
৮) মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে বানিজ্যিক
মার্কেট। মূল্য ১০ কোটি।
৯) স্ত্রীর বিজনেস ক্লাস ভ্রমন বছরে ৪ বার।
১০) নগদ বা ব্যাংকে ……???