​১৩৪ কোটি টাকার উটপাখি গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২টির মধ্যে ১৫টি জবাই

আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন



এবার দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু–খাসির বিকল্প মাংসের উৎস অনুসন্ধানে নেওয়া প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টিই জবাই করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি উটপাখি মারা গেছে। বর্তমানে প্রকল্পে মাত্র চারটি উটপাখি রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)।

বিএলআরআইয়ের ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে আফ্রিকা থেকে দুই দফায় সাতটি ও পরে ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি আমদানি করা হয়। ২০১৯–২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন। প্রকল্প শুরুর সময় দাবি করা হয়েছিল, দেশের পরিবেশে উটপাখি সহজেই অভিযোজিত হতে পারবে এবং একটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাংস উৎপাদন সম্ভব হবে।


তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো সফল ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিএলআরআইর তথ্য অনুযায়ী, মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ মূল্যায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ১৫টি উটপাখি জবাই করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনটি উটপাখি মারা যায়। গবেষণার নামে এত সংখ্যক প্রাণী জবাই করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গবেষণায় প্রাণী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নয়। তাই এ দেশের পরিবেশে তাদের অভিযোজন সহজ নয়। তিনি বলেন, গবেষণার প্রয়োজন থাকলেও ২২টির মধ্যে ১৫টি উটপাখি জবাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল।


উটপাখি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় সব সময় সফলতা আসে না। তিনি জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধাপে ধাপে গবেষণা প্রয়োজন। ১৫টি উটপাখি জবাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান পরীক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকল্প পরিচালক দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ ও ফেলোশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে ড. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক বলেন, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রজাতি নয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তাদের অভিযোজন, খাদ্যাভ্যাস ও মাংসের গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।


এর আগে ২০২৩ সালে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগ জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যদিও তখন সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া সৈয়দপুর কেন্দ্রে ১ হাজার ২০০টি কোয়েল পাখির মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে উটপাখি প্রকল্পের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com