প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১৩ ৮।২২৬
— অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
গত বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কর্নেল (অব.) অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মালেক খান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ।
সভায় ডক্টর শরীফ শাকি দীর্ঘ বক্তব্যে, প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বৈধ কর্মসংস্থান, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, ব্যাংকিং সেবা, জানমালের নিরাপত্তা, সহজ ঋণ, পেনশন, কল্যাণ তহবিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর প্রতিনিধিত্বসহ আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশ বহুগুণ লাভবান হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কর্নেল (অব.) অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো গেলে দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিকভাবে উপকৃত হবে। একজন অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী বেশি বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
তিনি বলেন, বিদেশে পাঠানোর আগে ভাষা, প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে একই ব্যক্তি শুধু নিজের পরিবারের নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, একজন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে একবার ব্যয় করতে হয়, কিন্তু সেই দক্ষতা থেকে ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র বহু বছর উপকৃত হতে পারে। তাই প্রশিক্ষণকে খরচ হিসেবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা, দক্ষতা ও যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভালো নীতি তখনই সফল হয়, যখন তা সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
প্রবাসীদের জানমাল ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে
লায়ন আঃ কাদির জিলানী প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য পেনশন এখন দয়া নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়। এই বিষয়ে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেনঃ-
১. রেমিট্যান্স যোদ্ধা, অর্থনীতির মেরুদণ্ড
দেশের রিজার্ভ, আমদানি, উন্নয়ন বাজেট - সব টিকে আছে প্রবাসীদের ঘামে। গত বছরেও ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। যারা দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখেন, ৬০ বছর বয়সে দেশে ফিরে তাদের নিঃস্ব, অসহায় হয়ে থাকতে হবে কেন? রাষ্ট্রকে এর দায় নিতে হবে।
২. বর্তমান "প্রবাস স্কিম" যথেষ্ট নয়
সরকার সর্বজনীন পেনশনের আওতায় "প্রবাস" নামে একটি স্কিম চালু করেছে। যেখানে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রবাসীকে মাসে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা বিদেশি মুদ্রায় জমা দিতে হয়, ১০ বছর চাঁদা দিলে ৬০ বছর থেকে আজীবন পেনশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি মূলত চাঁদাভিত্তিক সঞ্চয়, রাষ্ট্রীয় পেনশন নয়। ৫ হাজার টাকা অনেক প্রবাসী শ্রমিকের জন্য বেশি আর এতে সরকারের সরাসরি কোনো পেনশন ফান্ড নেই।
৩. আমাদের দাবি: রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশেষ পেনশন তহবিল
আমরা বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি"র পক্ষ থেকে দাবি করছি, প্রতিটি বৈধ রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর জন্য "রেমিট্যান্স যোদ্ধা পেনশন তহবিল" গঠন করতে হবে।
সরকার প্রতি ১০০ টাকা রেমিট্যান্সের বিপরীতে যে ২.৫% প্রণোদনা দেয়, তার একটি অংশ সরাসরি এই পেনশন তহবিলে জমা হবে। প্রবাসী ১০ বছর বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে, ৫৫ বছরের পর তাকে রাষ্ট্র মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পেনশন দেবে। যেমনটি সরকার এখন ২০ হাজার টাকা ভাতার কথা বলছে, সেটিকে আইন করে স্থায়ী করতে হবে।
৪. এটি শ্রমের মর্যাদার প্রশ্ন
প্রবাসী শ্রমিকরা মরুভূমির ৫০ ডিগ্রি গরমে, সাগরে, জাহাজে কাজ করে। তাদের শ্রমে দেশে ফ্লাইওভার হয়, পদ্মা সেতু হয়। কিন্তু তারা অসুস্থ হলে, কর্মক্ষমতা হারালে দেশে তাদের কোনো সামাজিক সুরক্ষা নেই। পেনশন তাদের অধিকার, অনুকম্পা নয়।
৫. হুন্ডি বন্ধ হবে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়বে
যদি একজন প্রবাসী জানে - আমি যত বেশি বৈধ পথে টাকা পাঠাবো, আমার পেনশন তত বেশি নিশ্চিত হবে, তাহলে সে কখনো হুন্ডিতে যাবে না। পেনশন চালু হলে সরকারের রিজার্ভও বাড়বে, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা দুর্বল হবে।
৬. রেমিট্যান্স কার্ডকে জাতীয় পরিচয়পত্রের মর্যাদা দিতে হবে
শুধু পেনশন বই নয়, প্রবাসী রেমিট্যান্স কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে ভিআইপি সম্মান, হাসপাতালে ৫০% ছাড়, সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পেনশন স্কিমের সাথে এই সুবিধাগুলো একীভূত করতে হবে।
৭. নিবন্ধন সহজ ও দূতাবাস ভিত্তিক করতে হবে
upension.gov.bd তে নিবন্ধন অনেক প্রবাসী বোঝেন না। আমরা চাই প্রতিটি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে "পেনশন সহায়তা ডেস্ক" এবং মোবাইল অ্যাপে বাংলা ভাষায় ১ মিনিটে নিবন্ধনের ব্যবস্থা। এনআইডি না থাকলেও পাসপোর্ট দিয়ে যেন নিবন্ধন করা যায়। ৮. আমাদের চূড়ান্ত আহ্বান "যে হাত বিদেশে দেশ গড়ে, সেই হাত বৃদ্ধ বয়সে খালি থাকবে না"। আমরা অন্তর্বর্তী কালীন সরকার ও ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের কাছে ৩ দফা দাবি জানাই: ক) প্রবাসী পেনশনকে সর্বজনীন পেনশনের একটি করুণার স্কিম থেকে বের করে, জাতীয় বাজেটে স্বতন্ত্র "রেমিট্যান্স যোদ্ধা কল্যাণ ও পেনশন আইন-২০২৬" প্রণয়ন করতে হবে। খ) ১০ বছর রেমিট্যান্স পাঠালে আজীবন পেনশন এবং ৫ বছর পাঠালে এককালীন গ্র্যাচুইটি দিতে হবে। গ) প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার নমিনি স্ত্রী/সন্তান যেন পেনশন পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মালেক খান বলেন, প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে এবং তাদের জানমাল, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
তিনি বলেন, একজন প্রবাসী যদি নিশ্চিত হন যে তার বৈধভাবে অর্জিত অর্থ, ব্যাংক আমানত, জমি, ব্যবসা এবং বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে, তাহলে তিনি বিদেশে অর্থ রেখে দেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রশ্ন নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা
সংসদের সদস্য সচিব স্পিকার এম এ রউফ একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষ।
ব্যাংক থেকে নিজের টাকা তুলতে না পারার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, বিভিন্ন প্রবাসী অভিযোগ করেছেন যে তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংকে রাখা নিজেদের অর্থ সময়মতো তুলতে পারছেন না। এ ধরনের অভিযোগ প্রবাসীদের আস্থা নষ্ট করে এবং দেশে বিনিয়োগের ইচ্ছাকে দুর্বল করে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের বৈধ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সম্পত্তি এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রবাসী যেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তায় না থাকেন।
তিনি বলেন, “প্রবাসীরা যদি তাদের অর্থের নিরাপত্তা, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা এবং আইনি সুরক্ষা পান, তাহলে তারা ছোটখাটো নয়, বড় আকারের বিনিয়োগও করতে পারবেন। এতে নতুন ব্যবসা, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারকে প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে তথ্যসেবা, প্রশিক্ষণ, সহজ অনুমোদন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। প্রচলিত প্রবাসী ঋণ বা পুনর্বাসন সুবিধা থাকলেও তা যেন সহজলভ্য, স্বচ্ছ এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
প্রবাসীরা অবহেলিত নয়, জাতীয় অর্থনীতির অংশীদার
সভা পরিচালনাকালে এম. এ. রউফ বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবদান অনুযায়ী যথেষ্ট মর্যাদা ও সুযোগ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই কোনো না কোনোভাবে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রবাসীদের দাবি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার দাবি নয়, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার দাবি।”
তিনি বলেন, বিভক্ত অবস্থায় প্রবাসীদের কণ্ঠ দুর্বল থাকে, কিন্তু যৌক্তিক দাবির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি শক্তিশালী, গঠনমূলক এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
কেন ছয় দফা দেশের স্বার্থেই বাস্তবায়ন করা উচিত
সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার কর্মসূচি নয়। এগুলোর প্রতিটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ এবং সামাজিক নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।
১. স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা
দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশে ফেরা বহু প্রবাসী বার্ধক্যে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। একটি কার্যকর পেনশন বা অবসরকালীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে তারা শেষ জীবনে অসহায় হয়ে পড়বেন না।
এটি শুধু মানবিক বিষয় নয়; একটি পেনশন কাঠামো বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, সঞ্চয় এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাকেও উৎসাহিত করতে পারে।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো
বিদেশ যেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হলে একজন কর্মী ঋণের বোঝা নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ফলে প্রথম কয়েক বছর তার আয়ের বড় অংশ ঋণ শোধে চলে যায়।
দালাল ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যয় কমানো গেলে কর্মীর হাতে বেশি সঞ্চয় থাকবে, বৈধ পথে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন এবং তার পরিবারও দ্রুত আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে পারবে।
অর্থাৎ বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো মানে শুধু একজন কর্মীর উপকার নয়; এটি বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিরও একটি কার্যকর উপায়।
৩. আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ
বিশ্বের শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শুধু শারীরিক শ্রম নয়, এখন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, প্রকৌশল, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা এবং বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ যদি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে, তাহলে একই সংখ্যক কর্মী বিদেশে গিয়েও অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। এতে মাথাপিছু রেমিট্যান্স বাড়বে, দেশের ভাবমূর্তি উন্নত হবে এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়বে।
৪. প্রবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা
নিরাপত্তা বলতে শুধু বিদেশে জীবনরক্ষার বিষয় বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে দেশে থাকা পরিবার, সম্পদ, ব্যাংক আমানত, জমি, ব্যবসা, বিমানবন্দর সেবা, আইনি সহায়তা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা।
যে প্রবাসী নিজের অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান থাকেন, তিনি দেশে বড় বিনিয়োগ করতে সাহস পাবেন না। তাই প্রবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পূর্বশর্ত।
৫. প্রবাসী কল্যাণ তহবিল
বিদেশে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, চাকরি হারানো, মৃত্যু কিংবা জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থাকলে জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে পরিবারগুলো ঋণগ্রস্ত বা নিঃস্ব হয়ে পড়া থেকে রক্ষা পাবে।
এই তহবিল সরকারের জন্য কেবল ব্যয় নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রবাসীদের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৬. জাতীয় সংসদ ও সরকারে কার্যকর প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব
প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা যারা প্রতিদিন অনুভব করেন, তাদের অভিজ্ঞতা যদি নীতিনির্ধারণে সরাসরি না পৌঁছায়, তাহলে অনেক সিদ্ধান্ত কাগজে ভালো হলেও বাস্তবে অকার্যকর হতে পারে।
এই কারণেই আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভায় কার্যকর প্রবাসী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়ে আসছে। এ ধরনের প্রতিনিধিত্ব থাকলে পাসপোর্ট, বিমানবন্দর, বিদেশে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো বিষয় সরাসরি সংসদে এবং সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ছয় দফা মানা মানে প্রবাসীদের সুবিধা নয়, দেশের বিনিয়োগ বাড়ানো
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, সরকার যদি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, পেনশন, কল্যাণ এবং বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে, তাহলে এর সুফল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিই পাবে।
তিনি বলেন, “একজন প্রবাসীকে নিরাপত্তা দিলে তিনি দেশে টাকা পাঠাবেন। আস্থা দিলে বিনিয়োগ করবেন। প্রশিক্ষণ দিলে বেশি আয় করবেন। বিদেশ যাওয়ার খরচ কমালে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন। পেনশন দিলে দেশে ফিরে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করবেন। আর প্রতিনিধিত্ব দিলে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজে লাগবে। তাই আমাদের ছয় দফা শুধু প্রবাসীদের দাবি নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের দাবি।”
সভা থেকে সরকার, বিরোধী দল, সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি নিয়ে প্রবাসী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসে বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।
সবশেষে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “দেশের স্বার্থ আর প্রবাসীদের স্বার্থ পরস্পরের বিরোধী নয়। প্রবাসীরা শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তাই দেশের স্বার্থেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত।”
প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
এম. এ. রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব উদ্যোক্তা সংগঠক স্পিকার
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
roufnasrin@ gmail com
সভাপতি
এডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রধান অতিথি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এডভোকেট ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ মালেক খান
চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন ( সরকার অনুমোদিত)
বিশেষ অতিথি
প্রফেসর ড. সাইফুল আলম চৌধুরী
সভাপতি জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখা
সভাপতি বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়া।
বিশেষ অতিথি
ডক্টর মালেক ফরাজি
বিশেষ অতিথি
ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
বিশেষ অতিথি কর্নেল আলী বাংলাদেশ
বিশেষ অতিথি মেজর ইমরান মিয়া
বিশেষ অতিথি মোসাদ্দিক মিয়া মানিক
বিশেষ অতিথি কর্নেল ফেরদৌস
লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা
নাসরিন আক্তার তরফদার
রেয়াজ আবু সাইদ
মির্জা সূমন
হাকিকূল ইসলাম খোকন সিনিয়র সাংবাদিক
সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ
আলহাজ্ব ডঃ শরিফ সাকি
মোহাম্মদ হারুন ও রশিদ
মো. আব্দুল ওয়াহাব রিংকো
সভাপতি
গাজীপুর সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব।
সম্পাদক ও প্রকাশক
ইসমাইল খান
হেলাল উদদীন
মোহাম্মদ ফজলুল করিম শেখ
মোহাম্মদ ফজলূল হক
এডভোকেট তাজুল ইসলাম
এডভোকেট মির সিরাজ
হেলাল উদদীন
জালাল উদ্দীন ফ্রান্স
ইসমাইল মিয়া
মোস্তাফিজুর রহমান রিপন।
এস এম আঃ সাত্তার