বিশেষ প্রতিনিধি :
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন।
হালকা যান চালানোর লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভার সেলিম মিয়ার অনিচ্ছা সত্ত্বে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল বর্জ্যবাহী ভারী গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-মে ১৪০-৭১৩)। কোনো হেলপার বা লেবার ছাড়াই একটানা ডিউটি করতে গিয়ে ২০২৩ সালে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চালক সেলিম মিয়া। ল্যান্ডফিলের ড্রেনের পঁচা পানির প্রভাবে ও সংক্রমণে পর্যায়ক্রমে চারবার তার পায়ের নিচের অংশ কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের পর সহানুভূতি পাওয়ার বদলে তিনি শিকার হয়েছেন জালিয়াতি ও প্রতারণার।
বারডেম হাসপাতালে যখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন, অভিযোগ উঠেছে—কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে কৌশলে নগর ভবনে নিয়ে গিয়ে বেশ কিছু কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তাকে জানানো হয় যে, ২০২৪ সালের ১ মে তিনি "স্বেচ্ছায় ও পারিবারিক কারণে" পদত্যাগ করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পদত্যাগপত্রটি তার অবর্তমানে অন্য একজন সচিব বরাবর লিখেছিলেন, যেখানে সচিবের কোনো রিসিভ স্বাক্ষর ছিল না; বরং ৩ মাস আগে পরিবহন দপ্তরের এক পিয়ন তা রিসিভ দেখায়। পদত্যাগের তথাকথিত তারিখের পরও তিনি টানা ৬ মাস নিয়মিত বেতন পেয়েছেন, যা জালিয়াতির বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে।
সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলের এই অন্যায় ও প্রশাসনিক নির্যাতনের কারণে সেলিম মিয়া আজ নিঃস্ব। চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী যাবতীয় সম্বল হারিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন তার অন্তত ৬২০ টাকার ওষুধ লাগে, অথচ অর্থাভাবে দিনাতিপাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নগরবাসীর সেবায় গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী সেলিম মিয়া এই চরম অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি তার বন্ধ হয়ে যাওয়া চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন পরিষদ এবং অঙ্গহানির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।