চরম জনবল সংকটের মুখে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গত এক যুগেও ৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়নি। পাশাপাশি বাড়ানো হয়নি প্রয়োজনীয় জনবলও। এর মধ্যেই আবার হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে ১৩ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসকের মারাত্মক সংকট রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন)—এর দুই চিকিৎসক দীর্ঘ দিন ধরে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) পছন্দের হাসপাতাল ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। ফলে জীবননগর হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
শুধু চিকিৎসকরাই নন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও প্রেষণে অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। ২১ জন কর্মচারীর মধ্যে ৮ জনই প্রেষণ নিয়েছেন। ফলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
চিকিৎসক ও কর্মচারীরা প্রেষণে অন্যত্রে কর্মরত থাকলেও খাতা-কলমে তাঁদের জীবননগর হাসপাতালেই পদায়ন দেখানো হচ্ছে। এ কারণে এসব শূন্য পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জীবননগর ও মহেশপুর উপজেলার একটি বৃহৎ অংশের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, সামান্য সমস্যা নিয়ে এলেই বলা হয় ‘ডাক্তার নেই’। এই অজুহাতে রোগীদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল অথবা যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে তীব্র শয্যাসংকট থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর ওপর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন ও প্রথম অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বাইরে থেকে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আশাবুল হক বলেন, “মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডেপুটেশন বাতিল করে দ্রুত সব শূন্যপদে চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে ওটিসহ বিকল এক্স-রে মেশিনটি সচল করে হাসপাতালের নতুন ভবন দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. ফাহমিদা সুলতানা রুনা বলেন, “আমি সম্প্রতি এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।