ণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম)এর প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলীর নামে ফ্যাসিস্ট এবং গুপ্তদের ঢাকা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে পুনবাসন করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি পন্থী গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) এর প্রকৌশলীদের বিভাগীয় শহর থেকে জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ে বদলী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে চরম উত্তোজনা বিরাজ করছে। তবে যাদের সমস্যা রয়েছে তাদের বদলীর আদেশ বিষয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম)প্রকৌশলীর অনেকই টাকার বিনিময়ে বদলীর আদেশ সংশোধন করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিয়োগ উঠেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কয়েকজন প্রকৌশলীকে বদলীর করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী মন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করেনি। বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের এবং গুপ্ত প্রকৌশলীদের নিজের আশপাশে রেখেছেন। সে কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলীর কার্যক্রম শুরু করে। সেই বদলীর লটারির নামে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১ হাজার ফ্যাসিস্ট এবং গুপ্ত প্রকৌশলীদের পুর্নবাসন করা হয়েছে। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়নের নামে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রকৌশলী এবং গুপ্ত প্রকৌশলী রাজধানীর আশপাশে রাখার নামে বদলী বাজিণ্য করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক হাজারের বেশি প্রকৌশলীকে বদলী করা হয়েছে।
তাদের বেশিরভাগেই ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রকৌশলী এবং গুপ্ত প্রকৌশলী। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অফিস গুলোর বদলীতে রাখা হয়েছে এ কারণে এসব বদলীর আদেশ বাতিলের দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ লটারিভিত্তিক বদলি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়নি বরং অধিদপ্তরের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদস্যসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, লটারিভিত্তিক বদলি প্রক্রিয়াকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন,গণপূর্ত অধিদপ্তর শাখা স্বাগত জানাই। এর ফলে অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়নে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে মনে হয় না।
গতকার ৩ আগস্ট অধিদপ্তরের ২৫৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে (ই/এম) লটারির মাধ্যমে বদলি- পদায়ন হয়। এর আগে গত ৩০ জুলাই একই প্রক্রিয়ায় ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে (সিভিল) বদলি করা হয়। পর্যায়ক্রমে অধিদপ্তরের অন্যন্য শখায়ও একই প্রক্রিয়ায় বদলী ও পদায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে দেশের আটটি বিভাগের ২৫৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে (ই/এম) বদলী-পদায়ন করা হয়।
লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ১১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন এবং রংপুর বিভাগে ২২ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে পদায়ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সমন্বয় করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক। তবে বদলী কমিটির তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন চার কর্মকর্তা। তার আগে উপস্থিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নেয়া হয় সেখানে লেখা হয়ে বদলীতে আমার আপত্তি নেই। তারা হলেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খান মো. নাজমুস শোয়েব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজি ফিরোজ হাসান, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান এবং নিবার্হী আ. ন ম মাজহারুল ইমলাম।
এদিকে বদলীর লটারির নামে যাদের পুর্নবাসন করা হয়েছে,তারা হলেন,গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিন মিয়া (ই/এম বিভাগ-১১ থেকে গণপূর্ত ই/এম উপ-বিভাগ-১ ঢাকায় পুর্নবাসন করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা রয়েছেন। এখনো ঢাকা পদায়ন করা হলো লটারীতে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মৌসুমী খন্দকার ই/এম বিভাগ-৩ থেকে ই/এম বিভাগ-১ ঢাকায় রাখা হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান ছিলেন ই/এম বিভাগ-৫ এর জায়গায় সেখান থেকে তাকে ই/এম উপ-বিভাগ-২ ঢাকায় বদলী করা হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বর্তমান কর্মস্থল ই/এম ভিবাগ-২ ঢাকায় সেখান থেকে ই/এম উপ-বিভাগ-২ শাখা গণভবনে দেয়া হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনের কর্মস্থল ছিলো ই/এম বিভাগ-১ ঢাকায় তাকে ই/এম উপ-বিভাগ-৩ ঢাকার এর ২ শাখ্য়া বদলী করা হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোকলেছুর রহমান ছিলেন ই/এম ঢাকার কারখানা বিভাগে তাকে ই/এম উপ-বিভাগ ঢাকা-৩ এর ২ শাখায় বদলী করা হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেছেন ই/এম পিন্ডডি বিভাগ-১ ঢাকায়। তাকে ই/এম উপ-বিভাগ ঢাকা ৫ এর ১ শাখায় বদলী করাসহ প্রায় ৫ শতাধিক কর্মকর্তাকে এই ভাবে পুনবাস করা হয়েছে।
অপর দিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল দের গ্রাম থেকে ঢাকায় আনার কথা থাকলেও তা বদলীর লটারীতে করা হয়নি। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিভিল রংপুর গণপূর্ত বিভাগ রংপুর থেকে রংপুরের রক্ষণাবেক্ষণা শাখা-৩ এ বদলী করা হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম রংপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে রংপুর উপ-বিভাগ-১ এর ২ শাখায় দেয়াসহ ৫ শতাধিক কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়েছে। অনেকই এ লটারীর নামে বদলী কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো.খালেকুজ্জামান চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আসলে মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে নিদেশনা দেয়া হয়েছে।
সেই ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঢাকা যারা রয়েছেন তারাই কিভাবে ঢাকা বদলী হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের করার কিছু নেই। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকেই লটারী করেছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪০৯ জন প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল রোববার লটারির মাধ্যমে সেগুনবাগিচায় পূর্ত ভবনের সম্মেলনকক্ষে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও ৬৭ জন সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) বদলি করা হয়। একই দিনে ১৩৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) ও ৫৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে (ই/এম) বদলি করা হয়েছে। লটারির ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ১০০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪ জন, খুলনা বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে (সিভিল ও ই/এম) বদলি-পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে লটারির ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ৭৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে (সিভিল ও ই/এম) বদলি-পদায়ন করা হয়েছে। লটারি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান ও স্বপন চাকমা।
এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের, আশ্রাফুল হক, উপসচিব খান মো. নাজমুস শোয়েব ও উপসচিব মো. আবু নাছেরসহ অন্যান্য প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং গত ৩ আগস্ট ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে (ই/এম) বদলি করা হয়।