কুড়িগ্রামে সরকারি আবাসনে প্রায় চার বছর বসবাস করে বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা বকেয়া রেখেছেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান। এর মধ্যে চিলমারী উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারে দুই বছর চার মাসের ভাড়া বাবদ ৮১ হাজার টাকা এবং কুড়িগ্রাম এলজিইডি কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিরোজুর রহমান বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী ছিলেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চিলমারীতে দায়িত্ব পালনকালে ফিরোজুর রহমান উপজেলা পরিষদের ‘ঘাঘট-০১’ নম্বর কোয়ার্টারে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বসবাস করেন। ওই সময়ের ভাড়া বাবদ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পরিশোধের জন্য তাকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও টাকা পরিশোধ করেননি।
গত ২৬ জুলাই চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা করার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ফিরোজুর রহমান কুড়িগ্রাম এলজিইডি কমপ্লেক্সের অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করছেন।
সূত্র জানায়, সেখানে ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে তার।
সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী, প্রতি মাসে বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। তবে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করলেও তিনি এসব বিল পরিশোধ করেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। টাকা পরিশোধ করছে কিনা জানি না।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। চিলমারীতে তারা দুজন জয়েন্ট করেছিলেন এজন্য টাকা পরিশোধ করতে দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া যেহেতু কুড়িগ্রামে এখনও চাকরি করেন কুড়িগ্রামের কোয়ার্টারের টাকা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।