চলমান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মিলেছে বিস্ময়কর অনিয়ম-দুর্নীতির একাধিক উদাহরণ। যার ফলে আর্থিক ক্ষতি, তহবিল তসরুপ ও অপচয় হয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। এসব প্রকল্প ঘিরে রয়েছে ১০৮টি অডিট আপত্তি, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র সাতটির। সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনগুলো কার্যকর করার বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিশেষ করে অডিট আপত্তিসহ যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে রয়েছে ৩৬টি অডিট আপত্তি। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া দেশের ৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে রয়েছে ২৯টি আপত্তি, যেগুলোর একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। ঢাকা-সিলেট চার লেন প্রকল্পে রয়েছে ১৯টি অডিট আপত্তি। এগুলোর মধ্যে ৪টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলোর ব্রডশিটে জবাব দেওয়া হলেও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রিপাওয়ারিং প্রকল্পে ১৪ আপত্তির একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে রয়েছে ১০টি অডিট আপত্তি, যেগুলোর কোনোটিই নিষ্পন্ন হয়নি।
ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্প
আইএমইডি সূত্র জানায়, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পটি দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা চীনের ঋণ থেকে পাওয়ার কথা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে খরচ বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৯২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এই প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। পরে তা এক বছর বাড়ানো হয়। এখন দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে চীনের ঋণ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় কমিয়ে ২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হচ্ছে। চীনের প্রতিশ্রুত ঋণ পাওয়া না গেলেও সরকারি অংশের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। এটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
প্রকল্পটিতে বহিরাগত নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ (এক্সটারনাল অডিট) আপত্তিগুলো হলোÑ সরকারি ক্রয় আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ খরচ, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সরবরাহ ছাড়াই অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের জন্য ৯২ কোটি টাকা পরিশোধ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত হারে অফিস ভাড়া দেওয়া। এছাড়া রয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত অফিস সংস্কার খরচ, প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, পণ্য সরবরাহ ছাড়াই পরিশোধ এবং অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত টাকায় চুক্তি করে খরচ। আরও আছেÑ ভিন্ন প্যাকেজে একই ধরনের ওয়াইফাই রাউটার বিভিন্ন দামে কেনা, ১০ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে ইচ্ছেমতো প্রাক্কলন করে আর্থিক ক্ষতি এবং অতিরিক্ত প্যাচ কর্ড (ছোট দূরত্বের তার) দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার অনিয়মিত চুক্তি।
পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
দেশের বিভিন্ন পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৭৯ কোটি ৫০ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে খরচ করা হচ্ছে ১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে ১৫৪ কোটি টাকা কমিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এখনও প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ শতাংশ।
প্রকল্পটিতে অডিট আপত্তি রয়েছে ২৯টি। এ প্রকল্পে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বহিঃস্থ নিরীক্ষায় (এক্সটারনাল অডিট) উঠে আসা অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সরকারি আইন ভঙ্গ, কাজের পরিধি কমিয়ে উচ্চ দরে পুনরায় দরপত্র আহ্বান, যোগাসাজশ করে পরামর্শককে কার্যাদেশ দেওয়া এবং আবাসিক প্রকৌশলীর পারিশ্রমিক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ আপত্তি। আরও আছে, নন-রেসপনসিভ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া, ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, নকশার বাইরে টাকা খরচ করা। আইএমইডি বলছে, নন-রেসপনসিভ ঠিকাদারকে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫১ হাজার ১৪১ টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত বিওকিউ ড্রয়িং, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশনের বাইরে বিভিন্ন আইটেম বাবদ ঠিকাদারকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। একইভাবে ভুল হিসাবের কারণে ঠিকাদারকে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। নকশার বাইরে ট্রান্সমিশন পাইপলাইনের জন্য ব্যয় করা হয়েছে অতিরিক্ত ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। প্রতিস্থাপনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কি-এক্সপার্টকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর-২০০৮) লঙ্ঘন করে ঠিকাদারের বিল থেকে জামানত বাবদ কাটা হয়নি ১১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া পূর্বপরিমাপ ছাড়াই ভূমি ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অনুমোদিত নকশা ছাড়া এবং নন-টেন্ডার আইটেম হওয়ার পরও মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অগ্রিম প্রদানের ব্যাংক গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা টাকা অগ্রিম সমন্বয় বা আদায় না করায় এবং সয়েল টেস্ট রিপোর্টের সুপারিশ ছাড়াই ‘স্যান্ড কম্প্যাকশন পাইল’ দেখিয়ে সরকারের ২৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়া ডিটেনশন এবং পোর্ট চার্জ (গুদাম ভাড়া) বাবদ ৪৭ লাখ ৫১ হাজার টাকার অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়, ডিপিএইচই সার্কেল অফিস স্থাপন না করেই সরকারের ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে আইটি সরঞ্জাম কেনার ফলে সরকারের ১৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির ঘটনা বাংলাদেশের যেন স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখনকার সরকার অবশ্য এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অডিট আপত্তি বলে অবহেলার সুযোগ নেই। কেননা এমনি এমনি তো অডিটররা আপত্তি দেননি। এখানে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বলেই আপত্তি এসেছে। এসব বিষয়ে আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ঢাকা-সিলেট করিডোর উন্নয়ন
সরকারের সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর উন্নয়ন (চার লেন) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হচ্ছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মূল মেয়াদের ৮৯ শতাংশ শেষ হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া প্রধান নির্মাণকাজের মধ্যে মূল সড়কের বাস্তবায়ন হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ, সার্ভিস লেনের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেতুর কাজ ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং কালভার্টের হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আইএমইডি বলছে, এই অগ্রগতি কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পটিতে রয়েছে ১৯টি অডিট আপত্তি। এগুলো মধ্যে ৪টির নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রধান আপত্তিগুলো হলোÑ আর্থিক অনিয়ম, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ঠিকাদারকে মূল সমন্বয়ের নামে টাকা দেওয়া। এতে ক্ষতি হয়েছে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৬ টাকা। প্রকৌশলীদের আবাসন নির্মাণে কোনো কাজ না করলেও ঠিকাদারকে বিল দেওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার। মোট অনিয়ম হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১৭ হাজার টাকার। এছাড়া ঠিকাদারের বিল থেকে রিটেনশন মানি কাটা হলেও ভ্যাট ও আয়কর বাবদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়নি। সঞ্চিত ব্যয় সুদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ভ্যারিয়েশন অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত কাজের জন্য ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত ভেঙে বীমা কাভারেজ করা হয়নি। আরও আছে প্রাপ্য নয়Ñ এমন চার্জ অ্যালাউন্স গ্রহণ এবং প্রকৃত ব্যয়ের পরিবর্তে চুক্তি ভেঙে আন্তর্জাতিক বিমানভাড়ার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইএমইডি বলেছে, উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আপত্তি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি হয়নি। একাধিক আপত্তি পুনর্জবাব পর্যায়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অধিক কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যÑ অধিকাংশ অডিট আপত্তিরই ব্রডশিটে জবাব দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এসব নিষ্পত্তি হবে।
ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প
ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। মেয়াদ ২০২৬ সালের অক্টোবর। কিন্তু গত মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ প্রকল্পে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের দেওয়া অডিট আপত্তি রয়েছে ১৪টি। কিন্তু একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। উল্লেখযোগ্য আপত্তিগুলো হলোÑ অপ্রয়োজনীয় ঋণের ফি বাবদ ক্ষতি হয়েছে ১৬ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই অনিয়মিতভাবে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করে ও চুক্তির ভ্যারিয়েশন বাড়িয়ে আর্থিক ক্ষতি, ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া, ভ্যাট থেকে অর্থ না কাটায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি।
মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ
উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৮৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এছাড়া এতে রয়েছে ১০টি অডিট আপত্তি। এগুলোর একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রধান আপত্তিগুলো হলোÑ ঠিকাদারের দাখিল করা দরের চেয়ে বেশি দরে ভ্যারিয়েশন করা আইটেমে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে ঠিকাদারের দাখিল করা উদ্ধৃত দরের চেয়ে বেশি দরে বিল পরিশোধ, রোডের পরিমাণ বেশি দেখিয়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেওয়া এবং ঠিকাদারকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আইএমইডির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরেছি। প্রতিবেদনগুলো ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন সবগুলো প্রতিবেদন গ্রন্থিত করে বই আকারে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’