খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা। নাম মোহাম্মদ বাবুল মিয়া।
তিনি খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলা খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার জন্ম জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তায় তিনি আজ সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ। অঢেল সম্পত্তির মালিক।
কর্মজীবনে তিনি জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত ২৩ আগস্ট জামালপুর শহরের শেখেরভিটা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাবুল মিয়ার নিজস্ব সাততলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান মিমি নামে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটটি ভবন মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন ওই নারীর কথিত স্বামী কাউসার আহম্মেদ। প্রাথমিকভাবে তাকে মিমির স্বামী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে কাউসার নিজেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক না থাকার কথা স্বীকার করেছে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের প্রমাণ বা বৈধতার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়েই ভবনের মালিক বাবুল মিয়া কাউসার আর মিমিকে অবাধে মেলামেশা করার সুযোগ করে দিলেন। তাদের এই অবাধ মেলামেশা শেষ পর্যন্ত একটি হত্যাকান্ডে পরিনত হল আর মা ডাকা থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো দুটি অবুঝ মুখ। যারা অনেক আগেই থেকে বাবা ডাকা থেকে বঞ্চিত। তাদের বাবা যখন মারা যায় তখন তাদের একজনের বয়স ৫ বছর আর আরেক জনের মাত্র ১ মাস। আর এখন তারা সম্পূর্ণ এতিম।
হয়ত এত সহজে ফ্ল্যাট কিংবা বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ না পেলে মিমি ও কাউসারের সম্পর্ক হয়ত অন্য দিকে যেত। তাহলে কি এই হত্যাকাণ্ড আদৌ ঘটত? হয়ত ঘটত কিংবা নাও ঘটতে পারতো।
খাদ্য কর্মকর্তা ভবন মালিক বাবুল মিয়া এ সমাজের একজন সচেতন নাগরিক।
এখন প্রশ্ন হলো, বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবুল মিয়া ভাড়াটিয়ার পরিচয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, সম্পর্কের তথ্য, স্থায়ী ঠিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেছিলেন কি না?
যদি সব যাচাই বাছাই করে থাকেন তাহলে তিনি কি মনে করে ফ্ল্যাট ভাড়া দিলেন? আর যদি না করে থাকেন, তাহলে তার এই গাফিলতির দায় তিনি এড়াবেন কিভাবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য কর্মকর্তা বাবুল মিয়ার কর্মক্ষেত্রের ইতিহাসও তেমন মসৃণ নয়। এই কর্মকর্তার চাকুরি আর সম্পত্তির হিসাব নেওয়া উচিত দুদকের।
প্রবাদে আছে, পাপ বাপেরেও ছাড়ে না।