মো: মিশিকুল মন্ডল
স্টাফ রিপোর্টার:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে শারীরিক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক ফরিদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিখোঁজের কয়েকদিন পর একটি আখক্ষেত থেকে ফরিদের মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।এরপর ঘটনাটি তদন্তে নেমে ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়া, সেটি বিক্রি এবং ফরিদের হত্যার মধ্যে যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার(২৬আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নওগাঁর আত্রাই রেল স্টেশন থেকে মামলার প্রধান আসামি সাগর মণ্ডল(২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার হোপীরহাট গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক ফরিদ হোসেন(৩৫) কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে ফরিদের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি সাগর মণ্ডল ও তার এক সহযোগী নিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ।পরে ভ্যানটি মাত্র ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ভ্যান বিক্রির সঙ্গে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরে নিখোঁজ ফরিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে একটি আখক্ষেত থেকে তার মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে সেটি ফরিদের বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ফরিদকে প্রথমে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে একটি জমির কাদায় মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন,২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাগর মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নওগাঁর আত্রাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।ওসি আরও বলেন,ফরিদ হত্যার ঘটনায় আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
জয়পুরহাট জেলা পুলিশের অতিরক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল)আরিফ হোসেন বলেন,ভ্যান চুরির উদ্দেশ্যে ফরিদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।সাগর ও জাকির তাকে ঘুমের ঔষধ খেয়ে দুর্বল করে আখক্ষেতে নিয়ে কাদামাটিতে চেপে ধরে হত্যা করে।পরে তার ভ্যানটি বিক্রি করা হয়।তদন্তে সিসিটিভি ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তিনজনকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে নওগাঁর আত্রাই থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।