প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ অনিয়ম দুর্নীতির শত শত অভিযোগ তবুও শাস্তির বদলে পদোন্নতি প্রকৌশলী ইকবাল কবির

আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডারবাজি, নিম্নমানের কাজ এবং ভূয়া বিলের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ সহ অভিযোগের পাহাড় ছিল এবং সে দুর্নীতিতে জড়িত অনেক প্রকৌশলী এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে আবার কেউবা আছেন বহাল তবিয়তে, তেমনি একজন এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ অনিয়ম দুর্নীতি চাঁদাবাজি সহ অভিযোগের পাহাড় তার বিরুদ্ধে কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি কখনো কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি উল্টো পেয়েছেন পদোন্নতি। কে এই প্রকৌশলী ইকবাল কবির ? মোঃ ইকবাল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড, উকিল পাড়ার কৃষক মোঃ রইছ উদ্দিন মোল্লার ছেলে।২০০৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডিতে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে কর্মজীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক মন্ত্রী এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ কারণ রাজনৈতিক প্রভাব ছিল তার ব্যাপক। যখন যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেই বানিয়ে ছিলেন অনিয়ম দুর্নীতির আর ঘুষের আখড়া প্রতিবাদ মানববন্ধন ঘেরাও ও জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে গেলেও অধিদপ্তরের শাস্তি হয়নি কখনো তার বিরুদ্ধে। ঘুষ ছাড়া করতেন না কোন কাজ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ইকবাল কবিরের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় যেটা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একটি তদন্ত কমিটি করা হলেও ইকবাল কবিরের রাজনৈতিক প্রভাবে সে তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি এবং পরবর্তীতে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তাকে নলছিটি থেকে চাঁদপুর হাজিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর এখানেও শুরু করেন নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য। এবং এখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ছিল। ঠিকাদারদের “নির্মাণকাজ পেতে নির্দিষ্ট সমঝোতা করতে হতো তার সঙ্গে অন্যথায় কাজ পাওয়া কিংবা বিল উত্তোলন করা একেবারে কঠিন ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল তৎকালীন এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির কাজের প্রতিবাদে তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঘেরাও করেছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রকৌশলী ইকবাল কবির বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজধানী ঢাকায় একাধিক প্লট ফ্লাট ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিজ জন্মস্থান ঝিনাইদহ সদরে বিপুল পরিমাণ জমিজমা ক্রয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী নোশিন তাবাসসুম, সন্তান রইন রবাহ, শাশুড়ি হোসনে আরা,মাতা মোসাম্মৎ রোকেয়া বুলবুল সহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন সঠিকভাবে আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের নামে অনুসন্ধান করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে। ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে ইতিমধ্যে ব্যাংক বীমা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে তার সম্পদ ও নগদ অর্থের তথ্য চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছে। এছাড়াও রয়েছে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য, অন্যায়ের প্রতিবাদে করলেই হুমকি নির্যাতনের ভয় দেখানো সহ শত শত অভিযোগ যেগুলো তার প্রতিটি কর্মস্থলে অনুসন্ধান করলেই এখানেও সত্য বেরিয়ে আসবে। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার হুমকি এড়িয়ে চলা, আরো অভিযোগ রয়েছে কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার কর্মস্থলের একাধিক সহকর্মী জানান উনি অর্থ ছাড়া কিছুই বোঝেন না এবং কাউকে তোয়াক্কা করেন না কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারি সে এইজন্য সরকার আসে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের ক্ষমতা এক বিন্দুও কখনো কমেনা বরং বাড়ে। এত পরিমাণ বিতর্কিত একজন প্রকৌশলী এত অভিযোগ যার বিরুদ্ধে এত তথ্য প্রমান থাকার পরও এই বছরের এপ্রিল মাসে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে যা নিয়ে চলছে এলজিইডি অধিদপ্তরে নানা সমালোচনা। বাংলাদেশের 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮' এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ (প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সয়লাব) থাকার পর তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই অথচ তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন কোন অদৃশ্য ক্ষমতায় ? বেশ কিছুনির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী এই পদোন্নতির জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন। তার এই পদোন্নতি এলজিইডির মধ্যে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের হতাশ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মঈন খান দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন কোন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোন ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রী এই ঘোষণার পরেই অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নড়েচড়ে বসেছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে নিজের চেয়ার ধরে রাখার জন্য। এই বিষয়ে জানতে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবিরের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি whatsapp এ খুদে বার্তা পাঠিয়ো কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com