নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানের পাশের ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্তিকে কেন্দ্র করে ‘ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। সংগঠনটির দাবি, প্রায় ৪০ কেজি মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হলেও সামান্য কিছু পোনা মারা যায়। অথচ একটি মহল ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীরা জানান, ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্তির কর্মসূচিটি ছিল সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের নিজস্ব উদ্যোগে। এতে সরকার বা সরকারের কোনো সংস্থার সহযোগিতা কিংবা অর্থ ব্যয় হয়নি। দলের নেতাকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ৪০ কেজি মৎস্য পোনা লেকে ছাড়া হয়। অবমুক্তির সময় ৮০ থেকে ৯০টি পোনা পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু ছিল অর্ধমৃত। খোলা পানির সংস্পর্শে এসে অক্সিজেন গ্রহণের পর অর্ধমৃত পোনাগুলোর কিছু স্বাভাবিক হয়ে পানিতে ডুবে যায়। শেষ পর্যন্ত মৃত পোনার পরিমাণ আধা কেজিরও কম বলে দাবি করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পোনাগুলো রাত ৩টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজের পাশ থেকে পলিথিনে অক্সিজেন দিয়ে প্যাকেটজাত করে ভোর ৬টার আগেই ক্রিসেন্ট লেকের পাশে নেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সকাল সাড়ে ৯টায় থাকায় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশে সকাল ৮টার দিকে পলিথিন থেকে পোনাগুলো ড্রামে রাখা হয়।
তাদের অভিযোগ, পোনাগুলো প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রামে থাকার সময় পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় কিছু পোনা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুরো ৪০ কেজি পোনার তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সামান্য বলে দাবি তাদের।
নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মসূচিস্থলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের মাত্র পাঁচজন নেতাকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে কোনো প্রশিক্ষিত মৎস্যকর্মী বা ট্রেইনার ছিলেন না। ট্রেইনার থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতো বলে দাবি তাদের।
সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আরও জানান, কর্মসূচির সময় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে দেখেছেন এবং মৃত পোনাগুলো সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে পরবর্তী সময়ে কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, একটি সামান্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণাকে তারা ‘ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের পক্ষ থেকে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।