বিশেষ প্রতিনিধি:
সরকারি চাকরির বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকা, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিল করা এক আবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সরকারি চাকুরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া লাভজনক কোনো ব্যবসা, বাণিজ্য বা অন্য কোনো পেশায় সরাসরি যুক্ত হতে পারেন না।
অফিস ঠিকানা ঃ ওয়াশপুর টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির একটি কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—অফিস-২, ১৮/৪, নিচতলা, ওয়াশপুর টাওয়ার, ওয়াশপুর, মোহাম্মদপুর-বসিলা ব্রিজসংলগ্ন, ঢাকা।
মূল অপরাধ ও অভিযোগসমূহ:
সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন: সরকারি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগতভাবে এবং পরিবার ও স্বজনদের নামে বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট ও ডেভেলপার ব্যবসায় যুক্ত থাকা।
স্বার্থের সংঘাত ও অবৈধ লেনদেন: সরকারি পদের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ, অর্থের উৎস গোপন রাখা এবং স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করা।
বেনামে ব্যবসা পরিচালনা: অভিযোগের শীর্ষে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যান্যরা নিজেদের সহোদর ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে 'ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স' নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে মোহাম্মদপুরের বসিলা, ওয়াশপুর, মিরপুর, উত্তরা ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগের মুখে থাকা প্রকৌশলীরা হলেন:
১. মিজানুর রহমান মিজান (উপ-সহকারী প্রকৌশলী)
২. আনোয়ার খান আনু (উপ-সহকারী প্রকৌশলী)
৩. আবুল বাসার (সহকারী প্রকৌশলী)
৪. আবদুর রউফ (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম)
৫. গুলনাহার (সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রচারপত্র ও অন্যান্য নথিপত্রের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।