নানা অপকর্মের পরও কুয়েত স্টেশনে বহাল বিমানের ‘প্রভাবশালী’ শাহজাহান-শামীমা দম্পতি

আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৪৯:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৪৯:১৫ অপরাহ্ন



গুরুতর অপরাধ, মানবপাচার, ব্যাগেজ জালিয়াতি ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহজাহান (পি-৩৬৪৮৯)। বিগত আওয়ামী শাসনামলে ১৫ বছর শ্রমিক লীগের রাজনীতি করে দফায় দফায় ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তা এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নতুন রূপ ধারণ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কুয়েত স্টেশন থেকে দেওয়া স্ট্যান্ড রিলিজ ও মুভমেন্ট অর্ডার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে বাতিল করে প্রশাসনিক নাটকের জন্ম দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
 
প্রাপ্ত তথ্য ও দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে এক আদেশে কুয়েত স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহজাহানকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও দ্রুত ঢাকা প্রত্যাবর্তনের নির্দেশনা (মুভমেন্ট অর্ডার) দেওয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কোনো এক ক্ষমতার প্রভাবে পরদিনই (৩ সেপ্টেম্বর) বিমানের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গ্রাউন্ড সার্ভিসেস) ফারহানা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নং-৩০.৩৪.০০০০.০১৯.১৪.০০৫.২৬) সেই আদেশ বাতিল করা হয়। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এমন নাটকীয় সিদ্ধান্ত বদল বিমান প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
 
সম্প্রতি কুয়েত থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৪৪ ফ্লাইটে বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) ঝটিকা তল্লাশিতে কুয়েত স্টেশনের ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়ে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে তল্লাশি করা ১৪ জন যাত্রীর মধ্যে ১২ জনের কাছেই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত ব্যাগেজ পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ী কোনো সরকারি ফি আদায় কিংবা রসিদ না দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই রাজস্ব নিজস্ব পকেটে পুরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এছাড়া নির্ধারিত ওজনসীমা না মেনে বিমানে লাগেজ বহনের ঘটনাটি ফ্লাইট নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
 
বিমানের ইতিহাসে বিরল নজির গড়ে মো. শাহজাহান তাঁর স্ত্রী শামীমা পারভীনকেও একই কুয়েত স্টেশনে পদায়ন করিয়ে নিয়েছেন। গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত বিমানের সাবেক এক এমডির আমলে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও শামীমা পারভীনকে দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে স্বামীর সাথে একই ফরেন স্টেশনে যুক্ত করা হয়। বিমানের ভেতরের অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে অতীতে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
 
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার পরদিন আবার তা প্রত্যাহার করা স্পষ্টতই দুর্নীতির আশ্রয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। কোনো অদৃশ্য রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
 
বিমানের সংশ্লিষ্ট সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী একটি সিন্ডিকেট এখনও প্রশাসনে সক্রিয় থেকে শাহজাহান-শামীমা দম্পতিকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই কুয়েত স্টেশন কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com