ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোটের নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা যাবে না। খবর এনডিটিভির।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে গৃহীত ১৪০ দফার ঘোষণাপত্রের ৪০তম দফায় পেহেলগাম হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছেন তারা। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।
পেহেলগামের বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর চালানো ওই হামলা ভারতের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক ঘোড়ার গাড়িচালক ছিলেন।
ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সব কর্মকাণ্ডই অপরাধমূলক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল বা কারা তা সংঘটিত করেছে, তা বিবেচনা না করেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না।
ঘোষণাপত্রে কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে দ্বৈত মানদণ্ড প্রত্যাখ্যান এবং জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রবাদ ও মৌলবাদী চিন্তার বিস্তার ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এর আগেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ব্রিকস। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেও হামলাটির নিন্দা জানানো হয় এবং সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এরপর চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানানো হয়।